মালদ্বীপে বিদেশী সামরিক বাহিনী থাকতে পারবে না ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পরে সমাবেশে এ ঘোষণা দেন তিনি।
এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মালদ্বীপের রাজনীতিতে মুইজ্জু চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত। ভোটের প্রচারে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভারতীয় সেনাদের মালদ্বীপ থেকে ফেরত পাঠানো হবে। নির্বাচনে “ইন্ডিয়া আউট” স্লোগান দিয়ে প্রচারণা চালান মুইজ্জু।
বিজয় সমাবেশের এই ঘোষণার মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগোচ্ছেন তিনি।
শনিবার দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোটে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সোলিহকে পরাজিত করেন তিনি।
সোমবার এক সমাবেশে মুইজ্জু বলেন, “আমাদের মালদ্বীপপন্থী নীতিতে সম্মত সমস্ত দেশ আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মিত্র হবে।”
কোনো দেশের নাম না করে তিনি যোগ করেন, “আমরা মালদ্বীপে থাকা বিদেশী সৈন্যদের ফেরত পাঠাব।”
অতীতে মুইজ্জুর দল ভারতের অপ্রতিরোধ্য প্রভাবকে সার্বভৌমত্বের জন্য একটি সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখেছে।
মালদ্বীপের সঙ্গে ভারতের পুরনো সাংস্কৃতিক, আর্থিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক রয়েছে। চীন সম্প্রতি দেশটির অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ করেছে।
বেল্ট ও রোড উদ্যোগের আওতায় পরিবহণ ও জ্বালানি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ করছে তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “নয়াদিল্লি মুইজ্জুর নীতি পর্যবেক্ষণ করবে। ভারত ‘মালদ্বীপবিরোধী নয়’। তাকে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদেরও তাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করা মুইজ্জু যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন। তিনি ২০১২ সালে গৃহায়ন মন্ত্রী হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ইয়ামিনের শাসনামলে তিনি সরকারের বড় বড় প্রকল্পের নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছেন। ২০২১ সালে তিনি মালেতে মেয়র পদে জয়লাভ করেন।



