গাজায় নৃশংস হামলা চালানোয় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়া। গাজা-সংকট শুরুর পর এই প্রথম কোনো দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিল।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) রাতে বলিভিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রেডি মামানি এ ঘোষা দেন। তিনি বলেন, “বলিভিয়া গাজা উপত্যকায় সংঘটিত আক্রমণাত্মক ও অগ্রহণযোগ্য ইসরায়েলি সামরিক আক্রমণ নিন্দাভরে প্রত্যাখ্যান করছে এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।” এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, বলিভিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার আরও দুটি দেশ কলম্বিয়া ও চিলি পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠিয়েছে। এই তিনটি দেশ গাজায় বেপরোয়া হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েলের কঠোর সমালোচনা করেছে আর এতে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তিনটি দেশই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো সামাজিক মাধ্যম “এক্সে”এক পোস্টে গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে “ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর চালানো গণহত্যা” বলে অভিহিত করেছেন।
এর আগে ২০০৯ সালে গাজায় ইসরায়েলের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে প্রতিবাদে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল বলিভিয়া। তখন বামপন্থি এভো মোরালিস দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
২০২০ সালে বলিভিয়ার ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট ইয়ানিন আনেজ ইসরায়েলর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের অবিরাম হামলায় এ পর্যন্ত ৩৫৪২ শিশুসহ ৮৫২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, অবরুদ্ধ গাজার প্রায় ২৩ লাখ বাসিন্দার মধ্যে ১৪ লাখ ইতোমধ্যেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।



