মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু দিল্লিকে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দেশটি থেকে ভারতীয় সব সেনা প্রত্যাহার করে নিতে বলেছেন।
শনিবার (১৩ জানুয়ারি) চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পরপরই এ নির্দেশ দেন মোহাম্মদ মুইজ্জু। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তার প্রথম সফর এটি। এরমধ্য দিয়ে দেশটির প্রচলিত প্রথাও ভেঙেছেন তিনি। মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্টরা সাধারণ প্রথম আন্তর্জাতিক সফরে ভারতে যান।
গত বছরের নভেম্বরে পিপলস ন্যাশনাল কংগ্রেস নেতা মুইজ্জু মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি হারান মালদ্বীপ ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারতপন্থী নেতা ইব্রাহিম মোহম্মদ সোলিকে। সোলি সরকারের নীতি ছিল “ইন্ডিয়া ফার্স্ট”। মুইজ্জুর প্রধান নির্বাচানি স্লোগান ছিল “আউট ইন্ডিয়া”। অর্থাৎ, দেশকে ভারতের প্রভাবমুক্ত করা।
শনিবার মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের পাবলিক পলিসি সেক্রেটারি আবদুল্লাহ নাজিম ইব্রাহিম বলেন, ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা মালদ্বীপে অবস্থান করতে পারবেন না। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু ও তার প্রশাসনের নীতি এটাই। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মালদ্বীপে ৮৮ জন ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।
গত নভেম্বরে ভোটে জিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মুইজ্জু দিল্লিকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তখন সময়ের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। তবে চীন সফর থেকে ফিরে তিনি এবার ভারতকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দিলেন। ৮ থেকে ১২ জানুয়ারি চীন সফর করেন তিনি। দেশে ফেরেন শনিবার।
এ মাসের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির ছোট্ট ইউনিয়ন টেরিটোরি লাক্ষাদ্বীপ সফর করার পর সেই সফরের কিছু ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তাকে ডুবসাঁতার দিতে দেখা যাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। স্থানীয়ভাবে লাক্ষাদ্বীপে পর্যটন উৎসাহিত করতে মোদী সেখানে ভ্রমণ করেছিলেন।
মালদ্বীপের তিন উপমন্ত্রী ও কয়েকজন নেতা ওই ছবি, ভিডিওতে মোদিকে নিয়ে “আপত্তিকর” মন্তব্য করেন। মোদিকে “জোকার”, “সন্ত্রাসী” এবং “ইসরায়েলের হাতের পুতুলও” আখ্যা দেন তারা। কেউ কেউ মোদির লাক্ষাদ্বীপ সফরকে গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় পর্যটনস্থল মালদ্বীপ থেকে পর্যটক ভাগিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা হিসাবেও দেখেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এ তিন উপমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়। দুই দেশের মধ্যে দেখা দেয় কূটনৈতিক টানাপোড়েন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে তিন উপমন্ত্রীকে বরখাস্ত করে মালদ্বীপ।
মালদ্বীপের বিরোধী দলগুলোও তিন উপমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তবে এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বলেন, “আমরা হয়তো ছোট দেশ, কিন্তু আমাদের বিদ্রুপ করার অধিকার কারো নেই।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ভারত ও মালদ্বীপের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকদের (কোর গ্রুপ) মধ্যে বৈঠক চলছে। প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় রবিবার সকালে রাজধানী মালেতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে। মালদ্বীপে ভারতের হাইকমিশনার মুনু মাহাওয়ার ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
ভারত মহাসাগরে ১,২০০টির মতো ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে মালদ্বীপ রাষ্ট্র গঠিত। এত দ্বীপের মধ্যে কমবেশি ২০০টিতে জনবসতি রয়েছে। জনসংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখ।



