যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসন শহরের একটি খ্রিষ্টান স্কুলে অজ্ঞাত এক বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সন্দেহভাজন বন্দুকধারীও রয়েছে। নিহত বন্দুকধারীও ওই স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল।
সোমবার (১৬ ডীসেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্কাই নিউজ জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে ম্যাডিসন শহরের অ্যাবান্ড্যান্ট লাইফ ক্রিশ্চিয়ান স্কুলে বন্দুক হামলা চালানো হয়। বন্দুকধারীর এলোপাতাড়ি গুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বন্দুকধারীও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ম্যাডিসন পুলিশের প্রধান শোন বার্নস সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সন্দেহভাজন বন্দুকধারী একজন কিশোর। ঘটনাস্থলে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। তার বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্কুলে বন্দুক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, “এই ধরনের ঘটনায় আমি খুবই মর্মাহত এবং এটা একটিা কান্ডঞ্জানহীন ঘটনা। এই ঘটনা আবারও বন্দুক আইন কঠোর করার গুরুত্ব বহন করে।”
প্রেসিডেন্ট বাইডেন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এটা অগ্রহণযোগ্য, কারণ আমরা আমাদের শিশুদের বন্দুক হামলা থেকে রক্ষা করতে পারছি না। এটাকে আমরা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে পারছি না।”
শহরের পুলিশ প্রধান শোন বার্নস বলেছেন, “হামলার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। বন্দুকধারী এলোপাতাড়ি গুলি করার পর সে আত্মহত্যা করে। এই সময় বেশ কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে আমি নিশ্চিত করে বলছি, পুলিশ সদস্যরা কোনো গুলি করেনি।”
ম্যাডিসন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ঘটনার তদন্ত চলছে। নতুন কোনো তথ্য পেলেই প্রকাশ করা হবে।”
কে-১২ স্কুল শুটিং ডেটাবেজ ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছর স্কুলে ৩২২টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। ১৯৬৬ সালের পর দেশটির স্কুলে এটাই গুলির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঘটনা। ওই বছরের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে সর্বোচ্চ ৩৪৯ গুলির ঘটনা ঘটেছিল গত বছর।



