ভারতে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবায়ী ধর্মীয় উৎসব হলো কুম্ভমেলা। সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে এই মেলা। শেষ হবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। আয়োজকরা মনে করছেন যে, ৬ সপ্তাহের এই হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে ৪০ কোটি পূণ্যার্থী অংশ নেবে, খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের ত্রিবেণি সঙ্গমে গোসল করবেন কোটি কোটি মানুষ। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে অন্তত ২ লাখ পুণ্যার্থী অংশ নেবেন।
এবারের মেলাকে বলা হচ্ছে মহাকুম্ভমেলা। এই মহাকুম্ভমেলা ১২টি পূর্ণকুম্ভমেলা শেষে ১৪৪ বছর পার করার পর অনুষ্ঠিত হতে হচ্ছে। ইতোমধ্যেই এই মিলনস্থলে উপস্থিত হয়েছেন লাখো মানুষ। আসছেন নাগা সন্ন্যাসী থেকে দেশ–বিদেশের সাধুসন্তরাও।
মেলার মুখপাত্র বিবেক চতুর্বেদী বলেছেন, প্রায় ৩৫ কোটি থেকে ৪০ কোটি ভক্ত-সাধু মেলায় আসছেন; কাজেই, বুঝতেই পারছেন প্রস্তুতির ব্যাপারটা কেমন। চতুর্বেদী বলছেন, প্রায় দেড় লাখ টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে, কমিউনিটি একেকটি রান্নাঘর থেকে একবারে পঞ্চাশ হাজার মানুষ খেতে পারবে। মূল অনুষ্ঠান স্থলে ৬৮ হাজার এলইডি লাইট সেট করা হয়েছে যার আলো আকাশ থেকে দেখা যাবে। নিয়মিত চলবে ১৩,২৩৪টি ট্রেন। আরও চলবে ৩,১৩৪টি স্পেশাল ট্রেন। ৭ হাজার সরকারি বাস। থাকবে হেলিকপ্টারে মহাকুম্ভ দর্শনের ব্যবস্থা। তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার ভক্তদের জন্য নানা মূল্যের তাঁবুর ব্যবস্থা।
২০১৯ সালে শেষবার যখন আধা কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল তখন মেলাতে ২৪ কোটি পূণ্যার্থী অংশ নিয়েছিল। ভারত সরকার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এই মেলাকে সামনে রেখে উত্তর প্রদেশ সরকার এই কুম্ভমেলাস্থলকে আলাদা ‘‘কুম্ভমেলা জেলা’’ নামে একটি নতুন জেলা গড়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ভারত সরকার কুম্ভমেলাকে ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক মিলবন্ধন হিসাবে ভাবে। যা একটা ছোট্ট ভারতরুপে ফুটে ওঠে। যেখানে কোনো নিমন্ত্রণ ছাড়াই কোটি কোটি মানুষ আসে।
কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয় গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর মোহনায়। যেখানে পূণ্য লাভের আশায় হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে গোসল করেন। অনেকে সপ্তাহব্যাপি হেঁটে মেলাস্থলে পৌঁছায়। হিন্দুরা মনে করে যারা গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতীর পবিত্র পানিতে গোসল করে মানুষ পাপ থেকে মুক্ত হয়। পুনর্জন্মের চক্র ভেঙ্গে বেরিয়ে যায়। পাপ থেকে পরিত্রাণ পায়।
ইউনেস্কো এই কুম্ভমেলাকে আধ্যাত্মিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসাবে তালিকাভুক্ত করেছে। অনেক পূণ্যার্থী মেলাতে এসে সরল জীবনের স্বাদ পায়।



