এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস। দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। এরই মধ্যে সেখানে বইতে শুরু করেছে শক্তিশালী বাতাস যা দাবানলকে আরও ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। খবর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা সানের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাতে লস অ্যাঞ্জলসের ভেনচুরা কাউন্টিতে ‘‘অটো ফায়ার’’ নামে নতুন আরেকটি দাবানলের সূত্রপাত হয় যা এখন পর্যন্ত ৫০ একর জায়গা পুড়েছে। নতুন দাবানলটি একটুও থামানো যায়নি। বাতাসের বেগ বেশি হওয়ার কারণে এটি অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এতে পুড়েছে শত শত ঘরবাড়ি, প্রাণ গেছে অন্তত ২৪ জনের। ভয়াবহ এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে লস অ্যাঞ্জেলেস কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশী কাউন্টিগুলো থেকেও আনা হচ্ছে আগুন নেভানোর সরঞ্জাম ও কর্মী বাহিনী। এরপরও বাগে আসছে না আগুন। দেখা দিয়েছে পানি সংকট।
এ বিষয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস বলছে, দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ায় ফলে খরা আর প্রবল বাতাসের কারণে দাবানলটি এত দ্রুত ছড়াচ্ছে।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে লিখেছে, দাবানল এমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনকেও কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কোন কোন বিষয়গুলো এর জন্য দায়ী, সেটি এখনো স্পষ্ট নয়।
ফায়ার সার্ভিসের একটি ব্যাটালিয়নের প্রধান ডেভিভ অ্যাকুনার মতে, ক্যালিফোর্নিয়া এলাকার ৯৫% দাবানলের শুরুটা হয় মানুষের বাহ্যিক কারণেই।
যদিও এখনকার দাবানলের শিখা ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ার ‘‘সান্তা আনা বাতাসের’’ কথা বলা হচ্ছে। মরুভূমির পরিবেশ বা শুষ্ক অঞ্চল থেকে ঘণ্টায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে এই বাতাস বয়ে যায় উপকূলের দিকে। এ বাতাসকে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার বড় কারণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সিবিএস এক প্রতিবেদনে লিখেছে, সান্তা আনার এই বাতাসই লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবানল আরও উসকে দিচ্ছে, যা শত শত বাড়িঘর পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। গৃহহীন করে দিয়েছে লাখ লাখ মানুষকে।
শুষ্ক আর উষ্ণ পর্যায়ের সান্তা আনা বাতাস বেশ শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা, উটাহ ও ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের শুকনো এলাকা থেকে এটি উড়ে আসে।



