Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাশ্মিরে ব্যাপক ধরপাকড়, জনমনে তীব্র ক্ষোভ

পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩২ এএম

কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে হামলাকারীদের খুঁজে বের করতে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। এ ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভারতের শ্রীনগর থেকে এএফপি জানিয়েছে, নয়াদিল্লি গত ২২ এপ্রিলের ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। তবে পাকিস্তান হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে একে “নিরর্থক” বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়াও ভারতের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পাকিস্তান।

পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।

জ্যেষ্ঠ এক পুলিশ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, কাশ্মিরে হামলাকারীদের ধরতে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। তারা সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের নয়টি বাড়ি ধ্বংস করেছে এবং প্রায় ২,০০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

জম্মু ও কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেন, “অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিন, তাদের প্রতি কোনো করুণা দেখাবেন না, কিন্তু নিরপরাধ মানুষদের যেন বলির পাঠা না বানানো হয়।”

কাশ্মিরের একজন ফেডারেল আইনপ্রণেতা আগা রুহুল্লাহ বলেন, “কাশ্মির ও কাশ্মিরীদের সম্মিলিতভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”

‘ঘুরে ফিরে গ্রেপ্তার’

ভারতীয় সেনাবাহিনী সোমবার জানিয়েছে, চতুর্থ রাতের মতো ভারত ও পাকিস্তানের সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময় হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান তাৎক্ষণিকভাবে গুলি বিনিময়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, “২৭-২৮ এপ্রিল রাতের বেলা পাকিস্তানি সেনা চৌকিগুলো প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উসকানিমূলক ছোট অস্ত্রের গুলিবর্ষণ শুরু করে। ভারতীয় সেনারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে তার জবাব দিয়েছে।”

মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মির অঞ্চল ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। উভয় দেশই পুরো কাশ্মিরকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। ভারতশাসিত অঞ্চলে ১৯৮৯ সাল থেকে বিদ্রোহ চলছে; বিদ্রোহীরা স্বাধীনতা অথবা পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার দাবিতে আন্দোলন করছে।

পেহেলগামে হামলায় জড়িত সন্দেহে তিনজনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছে ভারতীয় পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন পাকিস্তানি বলে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, এই তিনজন পাকিস্তানভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী লস্কর–ই–তাইয়েবার সদস্য। গোষ্ঠীটিকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায় রেখেছে জাতিসংঘ। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধরিয়ে দিলে ২০ লাখ রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত।

ভারত নিজ দেশের কয়েকজন নাগরিককেও সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে, যাদের সম্পর্কে ধারণা করা হচ্ছে যে তারা হামলাকারীদের বিষয়ে তথ্য জানে।

একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “পুলিশ স্টেশনগুলোতে এক প্রকার ঘুরে ফিরে গ্রেপ্তারের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কিছু মানুষকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, আবার নতুন করে অনেককে ডাকা হচ্ছে।”

এদিকে হামলায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয় অনেকের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নয়টি বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। এতে অনেক পরিবার নিজেদের সহায়–সম্বল হারিয়েছে।

পলাতক আশিফ শেখের বোন ইয়াসমিনা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা তিন বছর ধরে আশিফের কোনো খোঁজ পাইনি, তবু আমাদের বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমার ভাই যদি জড়িতও হয়, তবু তার পরিবারের অপরাধ কী? এই বাড়ি তো শুধু তার একার না।”

সংকটময় এই পরিস্থিতিতে ভারত ও পাকিস্তানকে সংযত থাকার আহ্বান আগেই জানিয়েছিল জাতিসংঘ। আজ একই আহ্বান জানিয়েছে চীন। বেইজিং বলেছে, তাদের আশা, দুই দেশ সংযত থাকবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়—এমন পদক্ষেপ নেবে। এ ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে বেইজিং নিবিড়ভাবে নজর রাখছে বলে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারকে জানিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই।

   

About

Popular Links

x