Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

২০০ বারের বেশি সাপের কামড় খাওয়া ব্যক্তির রক্তে তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকরী অ্যান্টিভেনম

গোখরাসহ বিশ্বের ভয়ঙ্কর সব সাপের বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে নিয়েছেন ৭০০ বার

আপডেট : ০৪ মে ২০২৫, ০৪:৩৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের এক ব্যক্তি প্রায় ২ দশক ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে ২০০ বারের বেশি সাপের কামড় খেয়েছেন। গোখরা সাপসহ বিশ্বের ভয়ঙ্কর নানা সাপের বিষ ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে নিয়েছেন কমপক্ষে ৭০০ বার।

ওই ব্যক্তির নাম টিম ফ্রিড। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। বিজ্ঞানীরা প্রাণীর ওপর পরীক্ষা করে দেখেছেন, টিমের রক্তে তৈরি হওয়া অ্যান্টিবডি প্রাণঘাতী মাত্রায় প্রয়োগ করা বিভিন্ন প্রজাতির বিষ প্রতিরোধ করতে সক্ষম।

শুরুতে ফ্রিড নিজের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চেয়েছিলেন যাতে করে সাপ ধরার সময় তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পারেন এবং নিজের এই কীর্তিকলাপ তিনি ভিডিও করে ইউটিউবে রেকর্ড করে রাখতেন।

বর্তমান চিকিৎসা পদ্ধতিতে যে নির্দিষ্ট প্রজাতির বিষাক্ত সাপ কামড়েছে অ্যান্টিভেনমের সঙ্গে তার মিল থাকতে হয়। কিন্তু ১৮ বছর ধরে ফ্রিড যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, তা সব ধরনের সাপের কামড়ের প্রতিষেধক হিসেবে একটি সর্বজনীন অ্যান্টিভেনম খুঁজে পাওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হতে পারে।

বিশ্বে প্রতিবছর সাপের কামড়ে অন্তত ১৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর ৩ গুণ মানুষ সাপের কামড় খেয়ে অঙ্গচ্ছেদ করতে বাধ্য হন বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন।

ফ্রিড শরীরে যেসব বিষ প্রয়োগ করেছেন তার মধ্যে কোবরা, তাইপান, কেউটে, মাম্বাসহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী কয়েকটি সাপের বিষ রয়েছে।

তবে এ কাজ করতে গিয়ে শুরুতেই তার প্রাণ যেতে বসেছিল বলে জানান সাবেক এই ট্রাক মেকানিক। এ নিয়ে ফ্রিড বলেন, “পরপর দুটি কেউটের কামড় খাওয়ার ফলে তিনি অসুস্থ হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন।’’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি মরে যেতে চাইনি। আমি আমার একটি আঙুল খোয়াতে চাইনি। আমি আমার কাজ হারাতে চাইনি।’’

ফ্রিডের লক্ষ্য ছিল বিশ্বের জন্য সাপের কামড়ের চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়ন করা। এই কাজের অনুপ্রেরণা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা আমার প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে ওঠে এবং আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করতে থাকি, চেষ্টা করতে থাকি- ওই সব মানুষের জন্য যারা আমার থেকে আট হাজার মাইল দূরে থাকে, যারা সাপের কামড়ে মারা যায়।”

উল্লেখ্য, বর্তমান সময়ে ঘোড়ার মতো প্রাণীর দেহে সাপের বিষ একটু একটু করে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করিয়ে অ্যান্টিভেনম তৈরি করা হয়। ওইসব প্রাণীর শরীরে থাকা প্রাকৃতিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ওই বিষের বিরুদ্ধে লড়াই করে অ্যান্টিভেনম তৈরি করে। পরে ওই সব প্রাণীর শরীর থেকে অ্যান্টিবডি নিয়ে তা অ্যান্টিভেনম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু ভেনম (বিষ) এবং অ্যান্টিভেনম (বিষ প্রতিষেধক) খুব কাছাকাছি হতে হয়। কারণ, একটি বিষাক্ত প্রাণীর কামড় থেকে আরেকটি বিষাক্ত প্রাণীর কামড়ে বিষের ধরন এবং মাত্রায় অনেক পার্থক্য রয়েছে।

এমনকি একই প্রজাতির প্রাণী থেকে তৈরি অ্যান্টিভেনমের মধ্যেও বিস্তর পার্থক্য থাকে। যেমন-ভারতে সাপের বিষ থেকে তৈরি অ্যান্টিভেনম শ্রীলঙ্কায় একই প্রজাতির সাপের কামড়ের বেলায় প্রতিষেধক হিসেবে খুব একটা কার্যকর নয়।

   

About

Popular Links

x