Saturday, July 25, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই ট্রাম্পের নতুন শর্ত

নবস্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক এই পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম

দুই দশকের দীর্ঘ ও জটিল আলোচনার অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের মধ্যে ঐতিহাসিক বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় এতে নতুন শর্ত আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চুক্তি কার্যকর করতে হলে সৌদি আরবকে অবশ্যই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন সংক্রান্ত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ -এ যোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেওয়া হবে না বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও অভাবনীয় অবস্থান পরিবর্তনের পর নবস্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক এই পারমাণবিক চুক্তির ভবিষ্যৎ গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বুধবার (২২ জুলাই)। ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বহুল প্রতীক্ষিত এই পারমাণবিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট সশরীরে এবং সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে অংশ নেন। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের ঠিক পরদিন বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভিন্ন ও কঠোর শর্তের কথা প্রকাশ করেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটির ঘোষণা এবং টাইমিং নিয়ে হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে চরম মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্তটি সৌদি আরবের জন্য নতুন কিছু নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই চেয়েছেন সৌদি আরব যেন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। তবে চুক্তি সইয়ের একদিনের মাথায় ট্রাম্পের এমন আকস্মিক শর্তারোপ প্রশাসনের নিজস্ব পারমাণবিক আলোচকদেরও হতবাক ও বিস্মিত করেছে। সিএনএনকে দুটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, চুক্তিতে শেষ মুহূর্তে এই শর্ত যুক্ত করা হবে, তা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আলোচকরাও জানতেন না।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা উল্টো জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন। হোয়াইট হাউস চেয়েছিল ওই দিনই চুক্তির ঘোষণা না দেওয়া হোক। কিন্তু জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট নির্ধারিত অনুষ্ঠান চালিয়ে যান এবং সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেন, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চরম অসন্তুষ্ট করে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, "যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে যে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি হচ্ছে, তা মূলত সৌদি আরবের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার ওপরই নির্ভর করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ জ্বালানি দল এ ব্যাপারে পুরোপুরি একমত।"

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বেন ডিটারিখ জানান, আলোচনা থেকে শুরু করে চুক্তি ঘোষণার প্রতিটি ধাপে হোয়াইট হাউস ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয় করেই কাজ করা হয়েছে।

চুক্তির মূল বিষয়বস্তু প্রকাশিত হতেই আমেরিকার রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল ও প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' ও 'ফক্স নিউজ'-এর বিশ্লেষণে বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের সময় সৌদি আরবকে বলা হয়েছিল আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করলে পুরস্কার হিসেবে বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি দেওয়া হবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন কোনো শর্ত ছাড়াই বিনামূল্যে রিয়াদকে সেই বড় সুযোগ করে দিচ্ছে।

গণমাধ্যমের এই কঠোর সমালোচনার পরেই মূলত ট্রাম্প নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া ইসরায়েলি কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ফোন করে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তটি অন্তত জুড়ে দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছিলেন। যদিও হোয়াইট হাউস নেতানিয়াহুর সরাসরি প্রভাবের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

মার্কিন আইন অনুযায়ী, চুক্তিটি কার্যকর করতে হলে এখনো কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। এর আগেই ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া নতুন শর্তের কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন এখন ঝুলে গেল।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বা রিয়াদ সরকার ট্রাম্পের এই নতুন শর্ত মেনে নিয়ে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করবে, নাকি দুই দেশ নতুন করে আলোচনার টেবিলে বসবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

   

About

Popular Links

x