Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লস অ্যাঞ্জেলসে বিক্ষোভ দমনে ন্যাশনাল গার্ড পাঠালেন ট্রাম্প

বিরল এক বিধি কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প গভর্নরকে পাশ কাটিয়ে নিজে সরাসরি এই সিদ্ধান্ত আরোপ করেছেন

আপডেট : ০৯ জুন ২০২৫, ০৯:৫৮ এএম

ফেডারেল অভিবাসন অভিযানের ফলে তীব্র বিক্ষোভ দমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লস অ্যাঞ্জেলস এলাকায় দুই হাজার ক্যালিফোর্নিয়া ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছেন। ন্যাশনাল গার্ড সাধারণত কোনো রাজ্যের গভর্নরের আওতায় থাকলেও বিরল এক বিধি কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নরকে পাশ কাটিয়ে নিজে সরাসরি এই সিদ্ধান্ত আরোপ করেছেন।

এই পদক্ষেপের ফলে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য এবং স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হতে পারে।

গত সপ্তাহে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস অ্যানফোর্সমেন্টের (আইসিই) একাধিক অভিযানের পর বিক্ষোভ শুরু হয় লস অ্যাঞ্জেলেসে। অন্তত ১১৮ জনকে অবৈধ অভিবাসী বলে সন্দেহ করে এই অভিযান চালানো হয়। বিপুল সংখ্যক অভিবাসী বাস করা এলাকা থেকে এই অভিযানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। পরবর্তীতে শহরজুড়ে বিক্ষোভকারীরা একত্রিত হন।

শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব লস অ্যাঞ্জেলসের প্যারামাউন্ট এলাকায় বিক্ষোভকারী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সংঘর্ষ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিকে “অমানবিক এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন।

শনিবারই ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের নির্দেশ দিয়ে ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প। ডিক্রিতে বলা হয়, “শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং ফেডারেল সম্পত্তি রক্ষা করাই এই সিদ্ধান্তের কারণ।”

তবে এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই পদক্ষেপকে “উদ্দেশ্যমূলকভাবে উস্কানিমূলক” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। এমন সিদ্ধান্তের ফলে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেও বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন নিউসম।

এক বিবৃতিতে নিউসম বলেন, “আমাদের সম্প্রদায়গুলোতে সেনা মোতায়েনের ফলে কেবল উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে। আমাদের অবশ্যই উত্তেজনা হ্রাস এবং সংলাপের চেষ্টা করতে হবে, সামরিকীকরণ নয়।”

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও এখনও লস অ্যাঞ্জেলস ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন হয়নি বলে জানিয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র কারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) এবং গভর্নর নিউসমকে পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, “... লস অ্যাঞ্জেলস শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়নি।”

ফেডারেল কর্মকর্তারা পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছেন যে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা ফেডারেল ভবনগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে মূল দায়িত্ব পালন করবে।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বিক্ষোভ না থামলে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় প্রয়োজনে মেরিন সেনা মোতায়েনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিক্ষোভগুকে “জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি” হিসাবে বর্ণনা করে এর পেছনে সংগঠিত অপরাধী নেটওয়ার্ক বা বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন জড়িত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। অবশ্য এমন সন্দেহের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ তিনি দেননি।

আয়োজকরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর অন্যায্য দমন-পীড়ন প্রতিরোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

লস অ্যাঞ্জেলসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিস্পানিক এবং বিদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। অভিবাসীদের জন্য একটি অভয়ারণ্য হিসাবেই এতদিন পরিচিত ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস। শহর ও রাজ্যের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ডেমোক্র্যাটিক নেতাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান প্রশাসনের রাজনৈতিক দূরত্ব এই বিক্ষোভের পর আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

   

About

Popular Links

x