শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন Accelerating and Strengthening Skills for Economic Transformation (ASSET) প্রকল্প দেশের কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বর্তমান সরকারের সময়ে ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত প্রকল্পের Short Course ও Enterprise-Based Training (EBT) কার্যক্রমের আওতায় মোট ২ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে নারী ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ জন এবং পুরুষ ৯৪ হাজার ৮৬৬ জন। অর্থাৎ মোট প্রশিক্ষণার্থীর প্রায় ৫৭.৯০ শতাংশ নারী। পুরুষের তুলনায় নারী প্রশিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৬০৪ জন বেশি। যাদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪ হাজার ৮০ জন এবং ৭৭৯ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি।
ASSET প্রকল্পের Short Course হলো ৩৬০ ঘণ্টার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ। নির্বাচিত সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (আরপিটিআই), আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আরটিসি), বিশেষায়িত সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, Short Course-এর আওতায় ২১ হাজার ৭০২ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে নারী প্রশিক্ষার্থীর হার প্রায় ৩৮.৮৭ শতাংশ। হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, ব্যবহারিক অনুশীলন এবং পেশাভিত্তিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কোর্সগুলো সাজানো হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের বিভিন্ন Industry Partner যেমন- Industry Skills Council, Industry Association এবং Chamber of Commerce and Industry-এর মাধ্যমে Enterprise-Based Training (EBT) কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এ কার্যক্রমের আওতায় ২ লাখ ৩ হাজার ৬৩৪ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যাদের প্রায় ৫৯.৯৩ শতাংশ নারী। EBT-এর ধরন অনুযায়ী কোনো কোনো প্রশিক্ষণ সম্পূর্ণভাবে শিল্পকারখানার বাস্তব উৎপাদন পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে।
আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ নির্বাচিত Skills Training Provider (STP)-এ এবং অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানায় apprenticeship-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে প্রশিক্ষণার্থীরা পেশাসংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন।
এই প্রশিক্ষণপদ্ধতি শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সংযোগ বাড়িয়েছে এবং দেশে Industry-Academia ও Industry-Training Provider সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।
উভয় প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এর মাধ্যমে মূল্যায়ন ও সনদায়ন করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের সময়ে এত বড় পরিসরে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান দেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এই উদ্যোগ শুধু প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যার দিক থেকে বড় নয়; নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন আর্থসামাজিক অবস্থানের মানুষকে দক্ষতা প্রশিক্ষণের মূলধারায় যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রকল্পের অর্জন ধরে রাখা এবং পুনর্গঠিত কর্মপরিকল্পনার আওতায় অবশিষ্ট ও বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য সরকার ASSET প্রকল্পের মেয়াদ ১৮ মাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুলাই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়।
বর্ধিত সময়ে Short Course ও EBT-এর পরিধি সম্প্রসারণ, চাহিদাভিত্তিক ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী পেশায় প্রশিক্ষণ, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও এনরোলমেন্টে স্বচ্ছতার ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



