Wednesday, September 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারীদের স্বাবলম্বী করতে নতুন উদ্যোগ, দেওয়া হবে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ

একইসঙ্গে কেয়ার ইকোনমিতে অংশগ্রহণ বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী 

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে যুগোপযোগী ট্রেড প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের পারফরম্যান্স ও দক্ষতার মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই সংশ্লিষ্ট সমিতি ও সংস্থাসমূহকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে।”

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ঢাকায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতিসমূহের মধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ধর্ম, বর্ণ, পাহাড়-সমতল এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে নাগরিকদের সমান অধিকার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড ইস্যু করছে। প্রশিক্ষণার্থীদের শুধু সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য যাতে দ্রুত ও সহজে বাজারজাত করা যায়, সেজন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় সিড মানি (প্রারম্ভিক মূলধন) এবং বহুমুখী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হবে।”

তিনি জেলা পর্যায়ের ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে আধুনিক ইকুইপমেন্ট ও প্রযুক্তিসমৃদ্ধ করে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গরূপে সচল করার নির্দেশ দেন। এছাড়া, প্রশিক্ষণ সমাপ্তির পর সকল প্রশিক্ষণার্থীর বিস্তারিত তথ্যাদি এমআইএস (MIS)-এ যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  

মন্ত্রী আরও বলেন, “বিশ্বব্যাপী দ্রুত বিকাশমান ‘কেয়ার ইকোনমি’তে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জেলা পর্যায়ে আধুনিক কেয়ার গিভিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

পাশাপাশি, সাধারণ জনগণকে দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বিদ্যমান শূন্য পদসমূহে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও বলেন তিনি।

একইসঙ্গে সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন, যৌতুক প্রথা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদাত্ত আহ্বান জানান মন্ত্রী।   

উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাধারণ অনুদান হিসেবে তিনটি ক্যাটাগরিতে ৩,১৮০টি সমিতিকে ৮,১৫,০২,৬০০ (আট কোটি পনেরো লক্ষ দুই হাজার ছয়শত) টাকা, ঘূর্ণায়মান অনুদান হিসেবে ৪০ জেলার ৭০ সমিতিকে ৩৫,০০,০০০ (পঁয়ত্রিশ লক্ষ) টাকা এবং স্বেচ্ছাধীন অনুদান হিসেবে ২১ জেলার ৬৯ সমিতিকে ২৩,৯৪,৩০০ (তেইশ লক্ষ চুরানব্বই হাজার তিনশত) টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির মধ্যে অনুদান বিতরণ সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। এছাড়াও, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী মহিলা সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

   

About

Popular Links

x