Tuesday, September 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গবেষণা-উদ্ভাবনে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় করার অঙ্গীকার উপাচার্যের

প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বদরবারে জ্ঞানে, দক্ষতায় ও মানবতায় অনন্য করে গড়ে তোলার কথা বলেছেন তিনি 

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুর-এর মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, “দেশের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত দুই যুগ ধরে সগৌরবে একাডেমিক উৎকর্ষ ও গবেষণা বিস্তারে ভূমিকা রেখে চলছে ডুয়েট।”

তিনি বলেন, “যুগোপযোগী টেকসই উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডুয়েটকে দেশের শ্রেষ্ঠতম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বদরবারে জ্ঞানে, দক্ষতায় ও মানবতায় অনন্য করে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান অঙ্গীকার।”

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) “ঐক্যের বন্ধনে অটুট ডুয়েট” প্রতিপাদ্যে ডুয়েটের ২৩ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাননীয় উপাচার্য শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে ‘ডুয়েট ডে-২০২৬’-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

সকালে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও কেক কেটে দিবসটির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল। পরে বর্ণাঢ্য র‌্যালি সহকারে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শাকিল পারভেজ অডিটোরিয়ামে গবেষণাকর্মে উৎকর্ষের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষকদের একাডেমিক এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ এবং কৃতী শিক্ষার্থীদের ডীনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল শিক্ষক বনাম ডুয়েট এলামনাই রশি টানাটানি ও প্রীতি ভলিবল ম্যাচ, সাবেক শিক্ষার্থীদের ডুয়েট বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্মৃতিচারণ এবং বাদ যোহর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিল।

অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল ডুয়েটের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “ডুয়েটের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করার প্রয়াসে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি ডুয়েটের নামকরণ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিখাতকে এগিয়ে নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের আন্তরিক প্রচেষ্টার কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

মাননীয় উপাচার্য আরও বলেন, “প্রতি বছর ডুয়েট থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করছে এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট, পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ দেশের বিদ্যুৎ-জ্বালানি অবকাঠামো থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতসহ জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।”

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তেও ডুয়েটের গ্র্যাজুয়েটরা মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব পেরিয়ে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বর্তমান বিশ্ব প্রসঙ্গে মাননীয় উপাচার্য বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, রোবোটিক্স, ইন্টারনেট অব থিংস, বিগ ডেটা, ন্যানোটেকনোলজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো বিভিন্ন প্রযুক্তির বিস্ময়কর বিকাশ যেমন অভূতপূর্ব সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন, দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি, প্রযুক্তিগত বৈষম্য ও সাইবার নিরাপত্তার মতো চ্যালেঞ্জও ক্রমেই বাড়ছে। এই বাস্তবতায় প্রকৌশল শিক্ষাকে যুগোপযোগীকরণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলাই ডুয়েটের প্রধান অগ্রাধিকার। ২৩তম ডুয়েট ডে-এর এই দিনে আমরা নতুন করে সেই অঙ্গীকারই ব্যক্ত করছি।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী রুমা বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কারিগর।”

তিনি বলেন, “ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের প্রকৌশল ডিপ্লোমাধারীদের একমাত্র স্বপ্নের ঠিকানা, যেখানে মেধা ও পরিশ্রমের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠে দক্ষ প্রকৌশলী প্রজন্ম। আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু নামকরা জাতীয় প্রতিষ্ঠানে নয়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রে নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করছে। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনশীল এই যুগে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার সমন্বয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে দেশের টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

এ সময় সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ডুয়েটকে বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আকরামুল আলম, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. কামাল-আল-হাসান, পরিচালক (গবেষণা ও সম্প্রসারণ) অধ্যাপক ড. মো. আনওয়ারুল আবেদীন, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) অধ্যাপক ড. উৎপল কুমার দাস এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহফুজ আলম।

দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডীন, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

   

About

Popular Links

x