দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আঞ্চলিক জলবায়ু সম্মেলন-২০২৩ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অংশ নিতে পেরে গর্বিত বলে জানিয়েছে শক্তি ফাউন্ডেশন।
শুক্রবার (১০ সেপ্টেম্বর) থেকে রবিবার ঢাকার বনানীর হোটেল শেরাটনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশীদার ছিল এই সংস্থাটি।
এতে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের অধীনে শক্তি ফাউন্ডেশন “প্রকৃতির সাথে সম্প্রীতি: ভারসাম্য উন্নয়ন এবং ইকোসিস্টেম ম্যানেজমেন্ট” শীর্ষক সেশন পরিচালনা করে।
সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাহিদার মধ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত ভারসাম্য অর্জন নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এই সেশনে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ঢাকার বায়ু উন্নত করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট বিভাগের বিজ্ঞান দূত উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ, পিই পিএইচডি প্রফেসর জেমস জে স্কয়ার প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন।
তার বক্তব্যে ঢাকা শহরের পরিবেশ ও জলবায়ু টেকসই কর্মসূচির মধ্যে বায়ুর গুণমানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম অধিবেশনে প্রধান অতিথি ও প্যানেলে বিশিষ্ট বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক অফিসার মিস অ্যামিক্যাস, প্রকৃতি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনার নির্বাহী পরিচালক এস. এম. মুনজুরুল হান্নান খান পিএইচডি, সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি ড. ড্যানিয়েল নোভাক, আইসিডিডিআর, বি,র এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়াশ হেলথ সিস্টেম অ্যান্ড পপুলেশন স্টাডিজ বিভাগের প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. মো. মাহবুবুর রহমান, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র আরবান ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট মিস ক্যাটালিনা ওচোয়া ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ।
মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে সবুজ জনসমাগমের জায়গা, জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা, টেকসই গণপরিবহন ও বায়ু দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডিএনসিসি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
তিনি ময়লার ভাগাড় থেকে মারাত্মক মিথেন গ্যাস নির্গমন রোধে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা বর্জ্য থেকে ৪২.৫ মেগাওয়াট শক্তি জ্বালানি প্ল্যান্ট স্থাপন করতে যাচ্ছি। আমরা প্রতিদিন ৩,০০০ টন বর্জ্য দিতে যাচ্ছি। যাতে প্রতিদিন ৪২.৫ মেগাওয়াট শক্তি উৎপন্ন হয়। এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।”
এতে শক্তি ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ যেমন উন্নত হয়েছে, চ্যালেঞ্জগুলোও বদলেছে। জলবায়ু পরিবর্তন এই চ্যালেঞ্জগুলোর অগ্রভাগে রয়েছে। ফলে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।”
দ্য ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশ, আর্থ সোসাইটি এবং অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) যৌথভাবে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
সম্মেলনে ভারত, ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের সংসদ সদস্য, বিদেশী রাষ্ট্রদূত, প্রতিনিধি, নীতিনির্ধারক, আন্দোলনকর্মী, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।



