Sunday, October 18, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রম্য

ইলন মাস্কের উড়ন্ত গাড়ি বাংলাদেশে আসলে কী কী ঘটতে পারে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন গাড়ি নিয়ে মজার ছলে নানা ধরনের কল্পনা করা হচ্ছে

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম

ইলন মাস্কের উড়ন্ত গাড়ি যদি একদিন বাংলাদেশে আসে, তাহলে প্রযুক্তির নতুন যুগ শুরু হবে- এমন আশা করতেই পারেন অনেকে। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠতে পারে, গাড়িটি আকাশে উড়বে, নাকি বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও ডিসের তারের জালে আটকে নতুন ইতিহাস গড়বে!

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন গাড়ি নিয়ে মজার ছলে নানা ধরনের কল্পনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের যানজট, রাস্তার অবস্থা, ঝুলন্ত তার, হকার, ছাদে কাপড় শুকানো আর ট্রাফিক পুলিশের বাস্তবতা মিলিয়ে উড়ন্ত গাড়ির ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কিছু সম্ভাবনা তুলে ধরা হলো।

ইলন মাস্কের উড়ন্ত গাড়ি কিনে প্রথম দিনেই আনন্দে আত্মহারা চালক। যানজট এড়িয়ে সোজা আকাশপথে গন্তব্যে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে গাড়িটি মাটি ছেড়ে ওপরে উঠতেই শুরু হলো আসল বিপত্তি। সামনে বিদ্যুতের তার, ডানে ইন্টারনেটের ক্যাবল, বাঁয়ে ডিসের তার, আর মাথার ওপর দিয়ে গেছে আরও কত রকমের তারের জাল! একটু এদিক-ওদিক হলেই গাড়ি আটকে যাওয়ার ভয়। চালক এখন আর গন্তব্যের চিন্তা করছেন না, বরং কোন তারের ফাঁক দিয়ে নিরাপদে বের হবেন, তা নিয়ে ব্যস্ত। নিচে দাঁড়িয়ে লোকজনও অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে, যে গাড়ি দিয়ে যানজট এড়িয়ে চলার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত তারের জটে আটকে গেছে! মনে হচ্ছে, উড়ন্ত গাড়ি বাজারে আনার আগে মাস্ককে হয়তো বাংলাদেশের রাস্তা নয়, আকাশের তারগুলো নিয়েই আলাদা করে ভাবতে হবে।

উড়ন্ত গাড়ি চালানোর জন্য যদি ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে তো বিপদের শেষ থাকবে না! ধরুন, মাঝআকাশে কয়েক শ ফুট ওপরে উড়তে থাকা গাড়িটির হঠাৎ ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তখন গাড়ি চলতে থাকবে, নাকি ইন্টারনেটের সিগন্যাল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই আকাশের মাঝপথে থেমে যাবে, এমন দুশ্চিন্তায় যাত্রীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত হওয়ার জোগাড়। নিচের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলবেন, আঙ্কেল, একটু ওয়াইফাইটা রিস্টার্ট দেন! গাড়ি মাঝআকাশে আটকে গেছে! 

উড়ন্ত গাড়ি মাঝআকাশে, হঠাৎ ব্যাটারির চার্জ শেষ! চালক জরুরি অবতরণের জায়গা খুঁজছেন, কিন্তু নিচে খোলা মাঠ নেই- আছে শুধু ভবন, দোকান আর নির্মাণসামগ্রী। শেষ পর্যন্ত খালের পাশে নামতেই একজন বলে উঠলেন, গাড়ি উড়তে পারে, কিন্তু নামার জায়গা খুঁজে পায় না! এদিকে বাড়ির ছাদে শুকাতে দেওয়া বিছানার চাদর উড়ন্ত গাড়ির থ্রাস্টারে আটকে গেলে গাড়ি চাদরসহ ঘুরতে শুরু করতে পারে। ছাদের মালিক তখন এসে বলবেন, গাড়ি আপনার, চাদর কিন্তু আমার! আর পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে ছাদে গাড়ি রাখলে বাড়িওয়ালা হয়তো বলবেন, “মাটিতে রাখলে দুই হাজার, ছাদে পাঁচ হাজার, আকাশে রাখলে আলাদা চার্জ!”

ইলন মাস্কের গাড়ি যদি সত্যিই বাংলাদেশে আসে, তাহলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে গাড়িকে আকাশে ওড়ানো, নাকি আকাশটাকে উড়ন্ত গাড়ির উপযোগী করে তোলা?
কারণ, বাংলাদেশে প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, তারের জট, যানজট আর পার্কিংয়ের সংকটের সঙ্গে পাল্লা দিতে হলে উড়ন্ত গাড়িকেও হয়তো আলাদা প্রশিক্ষণ নিতে হবে!

   

About

Popular Links

x