Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হারিয়ে যাচ্ছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁত

সুতাসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর কাপড় তৈরি করে পোষাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা  

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ০৭:১৭ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের কাছে কোমর তাঁত খুবই জনপ্রিয়। তবে কালের বির্বতনে হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁত। সুতাসহ কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর কাপড় তৈরি করে পোষাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন পাহাড়ের নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা।

শত শত বছর আগে থেকেই পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃ- গোষ্ঠীর নারীরা নিজেদের পরনের কাপড় নিজেরাই বুনতো। কোমর তাঁতে এসব কাপড় বোনা হতো। একটা সময় নৃ- গোষ্ঠীর নারীদের বিয়ের যোগ্যতা হিসেবে কোমর তাঁত বোনা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় সে ঐতিহ্য এখন আর নেই। প্রায় বিলুপ্তির পথে কোমর তাঁত। 

রাঙামাটির কুতুকছড়ির এলাকার সিমি চাকমা বলেন, “এটি আমাদের চাকমাদের ঐতিহ্য। যুগ যুগ ধরে আমরা কাপড় বুনন করে আসছি কোমর তাঁত দিয়ে । কিন্তু এখন বাজার থেকে সুতা কিনে কাপড় তৈরি করবো সেই সামর্থ্য নেই। সুতার দাম বাড়তি, তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন আমাদেরকে বিনামূল্যে সুতা দিলে আমরা খুবই উপকৃত হবো।”

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা বংশ পরম্পরায় এ কাজ শিখেছেন। পাহাড়ে প্রায় সব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ কোমর তাঁত বুনেন। বিশেষ করে চাকমা সম্প্রদায়ের পিনন-খাদি বেশি জনপ্রিয়। পিনন-খাদি ছাড়াও কোমর তাঁতে বোনা হয় গামছা, লুঙ্গি, ওড়না, চাদরসহ বিভিন্ন ব্যবহারের বস্ত্র।

রাঙামাটির সদর উপজেলার সাপছড়ি ইউনিয়নের সোনাবী চাকমা বলেন,“সরকার যদি আমাদের সহযোগিতা করে তাহলে পিনন, খাদি বুনন করে বাজারে বিক্রয় করার মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারবো।”

এদিকে, আধুনিকতার ছোঁয়া আর যন্ত্রপাতির প্রভাবেও হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁত। সুতা ও রংয়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় এবং বাজারজাত সংকটের কারণে যারা এটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারও পোষাতে পারছে না। এখন বাজারে মিলছে মেশিনে বানানো উপজাতীয় বস্ত্র।

ঐতিহ্যবাহী কোমর তাঁত রক্ষায় সরকার উদ্যোগ নিবে এমন প্রত্যাশা বিশিষ্টজনদেরও।

এদিকে, উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও পণ্য বাজারজাতে সরকার সহায়তা দিচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

প্রতিষ্ঠানটির রাঙামাটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন বলেন, “বিসিকের মাধ্যমে রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ক্ষুদ্র উদ্যেক্তাদেরকে তাঁত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদের উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলো আমাদের প্রদর্শনী কেন্দ্রের মাধ্যমে বিক্রি করার সুযোগ আছে।”

   

About

Popular Links

x