ধানের জমিতে পানি না পেয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর দুই কৃষক কীটনাশক পান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরমধ্যে একজন মারা গেছেন। অন্যজন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মৃত অভিনাথ মারান্ডি (৩৬) গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের নিমঘুটু গ্রামের বাসিন্দা। চিকিৎসাধীন রবি মারান্ডি (২৭) সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যার একটু আগে অভিনাথ ও রবি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপের কাছেই কীটনাশক পান করেন। এরপর দুইজনকেই প্রথমে বাড়িতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর অভিনাথ মারা যান। এরপর রবিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মৃত অভিনাথ মারান্ডির স্ত্রী রোজিনা হেমব্রম জানান, তার স্বামী ১০-১২ দিন ধরে ধরনা দিয়েও জমিতে পানি না পেয়ে বুধবার বিএমডিএ গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের কাছে যান। পানি না পেয়ে ক্ষোভে তার স্বামী অভিনাথ ও তার চাচাতো ভাই রবি কীটনাশক পান করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জানে আলম, গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল।
গভীর নলকূপ অপারেটর সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, গত মঙ্গলবার অভিনাথের জমিতে পানি দেওয়া হয়েছে।
তার দাবি, ইশ্বরীপুরে বিএমডিএর ২ নং ডিপ টিউবওয়েলের অধীনে ২৬৫ বিঘা জমি এবার ধান চাষের আওতায় এসেছে। কোথাও পানির সংকট নেই।
বিএমডিএর গোদাগাড়ী জোন-১ এর সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান জানান, তারা স্বপ্রণোদিত হয়েই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। তিনিও দাবি করেন, কোথাও পানির সংকট নেই।
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, “আমরা লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



