Tuesday, June 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অ্যাকুরিয়ামের রঙিন মাছ চাষ করুন পুকুরে, হোন লাভবান

নওগাঁর কয়েকটি উপজেলার পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বাহারি মাছ

 

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০৬:০৫ পিএম

সৌখিন মানুষ অ্যাকুরিয়ামে পোষেন বাহারি রংয়ের অর্নামেন্টাল ফিশ। একসময় এসব মাছ আসত বিদেশ থেকে। বর্তমানে যার চাষ হচ্ছে নওগাঁয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলায় বাড়ছে আগ্রহী চাষির সংখ্যা। তবে রয়েছে সমস্যাও। চাষিরা বলছেন, রঙিন মাছ সৌখিন হওয়ায় এগুলো পরিবহনে বিশেষায়িত ব্যবস্থা প্রয়োজন। যার অভাব রয়েছে জেলায়।

নওগাঁর সদর, আত্রাই, বদলগাছী, পত্নীতলা, ধামইরহাট উপজেলার পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে বাহারি মাছ। 

শুরু ও বিস্তৃতি

উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমী পিকেএসএফ-এর অর্থায়নে ২২-২৩ অর্থবছরে উৎসাহী চাষিদের দিয়ে বাহারি মাছ চাষ শুরু হয় এসব উপজেলায়।

বদলগাছীর কামারবাড়ি গ্রামের চাষি আবু রায়হান সিদ্দিক বলেন, “মৌসুমীর সার্বিক সহযোগিতায় পাঁচটি পুকুরে বাহারি মাছ চাষ করেছি। আমি সিল্কি কই কার্প ও কমেট মাছের রেণু সফলভাবে উৎপাদন করছি। এখন আমার পুকুরে কই কার্প, কমেট, বাটারফ্লাই, অরেন্টা ফিশ, মলি ও গাপ্পি মাছের চাষ হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাচ্ছি।”

রঙিন মাছের চাষ বাড়ছে নওগাঁয়/ঢাকা ট্রিবিউন

এই চাষি জানান, লাভবান হওয়ায় তার দেখাদেখি অনেকেই বাহারি মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। শিক্ষিত বেকার তরুণরা বাহারি মাছের চাষ করে ভাগ্য বদলাতে পারেন বলে মনে করেন রায়হান।

একই উপজেলার আরেক চাষি দেবনাথ চৌধুরী বলেন, “আমি রায়হানের কাছ থেকে রঙিন মাছ নিয়ে চাষ করছি। মাছগুলো দেখতে সুন্দর, আকারেও অনেকখানি বড় হয়। এই মাছ বাজারে গিয়ে বিক্রির ঝামেলা পোহাতে হয় না। দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই কিনে নেন। দিন দিন অনেকেই এই রঙিন মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।”

সম্ভাবনা এবং প্রতিবন্ধকতা

নওগাঁ শহরের বাসিন্দা আলতাফ হোসেন বলেন, “বাসার অ্যাকুরিয়ামের জন্য রঙিন মাছ কিনতে আর ঢাকা কিংবা অন্য কোথাও যেতে হয় না। খুব সহজেই নওগাঁ থেকে মাছ সংগ্রহ করা যাচ্ছে। নওগাঁয় পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে রঙিন মাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হলে রঙিন মাছের চাষই শিক্ষিত বেকারদের ভাগ্য বদলের উপায় হিসেবে কাজ করবে।”

মৌসুমীর মৎস্য কর্মকর্তা মো. শাহারিয়া হোসেন বলেন, “মৌসুমী সবসময় নওগাঁর মানুষদের অধিক লাভজনক নতুন নতুন ফসল চাষ থেকে শুরু করে কৃষি বিভাগের সব খাতেই সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক পর্যায়ে চাষি রায়হানকে মৌসুমীর পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে রঙিন মাছ চাষ শুরু করা হয়। ফলাফল ভালো হলে নওগাঁর আগ্রহী উদ্যোক্তাদের বড় পরিসরে এই মাছ চাষে সার্বিক সহযোগিতার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. বায়েজিদ আলম বলেন, “স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি সরকারিভাবেও জেলার কয়েকটি উপজেলায় আগ্রহী চাষিদের মাধ্যমে রঙিন মাছের চাষ শুরু হয়েছে। তবে বিশেষায়িত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় রঙিন মাছের চাষ প্রসারিত হচ্ছে না। এসব মাছের ক্রেতা সারাদেশেই আছে।”

বিশেষায়িত পরিবহন ব্যবস্থা সৃষ্টি করা গেলে আরও দ্রুত দেশব্যাপী নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হতো বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।

About

Popular Links