Tuesday, August 11, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বাইরে ভোট দিলে কী হবে?

স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

সাড়ে তিন দশক পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার একাধিক প্রার্থী হতে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে। জাতীয় সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন। স্থানীয় সরকার ও সংসদ নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয় প্রকাশ্যে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, প্রকাশ্যে ভোট হওয়ায় কোনো সংসদ সদস্য দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন কি না। দলীয় প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে তার ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে দুই ধরনের মতামত পাওয়া গেছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য শরীফ ভূইয়া বলছেন, কোনো এমপি তার দলের বিপক্ষে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার সদস্য পদ বাতিল হবে।

তবে ১৯৯১ সালের অভিজ্ঞতার আলোকে সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন আহমদ মনে করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে না।

১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিলে সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান ছিল। কিন্তু ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি আইনে প্রকাশ্য ভোটের বিধান করা হয়।

১৯৭৪ সালের ২৪ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিনা ভোটে দেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন তৎকালীন জাতীয় সংসদের স্পিকার মোহাম্মদউল্লাহ।

এরপর রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থায় জনগণের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন ১৯৭৮, ১৯৮১ ও ১৯৮৬ সালে। সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা ফেরার পর রাষ্ট্রপতি আইন, ১৯৯১ জারি হয়।

পঞ্চম সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবার ভোটাভুটি হলেও পরবর্তী সময়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থীই নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

জাতীয় সংসদে কোনো সদস্য নিজের দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাকে ‘ফ্লোর ক্রসিং’ বলা হয়। বিশ্বের অনেক অগ্রসর গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সেই সুযোগ সীমিত।

৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, তার মনে হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে না। কারণ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন রয়েছে এবং ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য করার কথা উল্লেখ করা অর্ডিন্যান্সটি বাতিল হয়ে গেছে। তার মতে, দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিষয়টি বিল বা নীতিগত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এটি প্রযোজ্য হবে না।

তবে ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে তাদের সঙ্গে একমত নন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল। তার ভাষায়, সংসদের ভেতরে অন্য কোনো আইন কার্যকর না থাকলে সবকিছু সংবিধান অনুযায়ী হবে। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রযোজ্য হবে।

জাহেদ ইকবাল বলেন, ৭০ অনুচ্ছেদের সরল অর্থ হলো, যে দল থেকে কোনো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দলের বিপক্ষে সংসদে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ চলে যাবে। এ বিষয়ে অন্য কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ ভূইয়াও বলেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী ৭০ অনুচ্ছেদই কার্যকর হওয়ার কথা।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, কিংবা এ বিধান কীভাবে কার্যকর হবে, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের বাইরে ভোট দেওয়ার বিষয় বা এতে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে কি না, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এটি রাজনৈতিক নেতাদের বিষয় এবং নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গ্রহণের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা তাদের কাছে সরাসরি ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য ভোটকক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে।

   

About

Popular Links

x