কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসা থেকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন ১৫ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) চলতি বছরের এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এ বছর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসায় ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় ১০ জন শিক্ষার্থী। তবে তাদের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, একটি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন শিক্ষক থাকার পরও ১০ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষার্থীদের যথাযথভাবে পাঠদান না করার কারণেই এমন ফল হয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে মাদরাসার সুপার মো. আবুল খায়েরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইউনুস জানান, ফলাফল প্রকাশের পর মাদরাসার সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মৌখিকভাবে সুপার জানিয়েছেন, মাদরাসার অধিকাংশ ভালো শিক্ষার্থী বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখতে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীদের দিয়েই পরীক্ষা চালিয়ে যেতে হয়েছে।
তবে সুপারের এই বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি বলেন, শোকজের লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



