বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির শূন্য পদে চারজন নতুন সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নেতাদের মধ্যে অন্যতম নতুন ও কৌতূহলপ্রদীপ নাম সাবেক সচিব মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
ইসমাইল জবিউল্লাহ ছাড়া স্থায়ী কমিটিতে নতুন স্থান পাওয়া অন্য তিন নেতা হলেন: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমানউল্লাহ আমান এবং ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। নতুন চারজন যুক্ত হওয়ার পর ১৯ সদস্যের স্থায়ী কমিটিতে বর্তমানে সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে।
মূলধারার মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন সক্রিয়ভাবে দৃশ্যমান না থাকা সত্ত্বেও বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরামে ইসমাইল জবিউল্লাহর অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিএনপির নীতি ও কাঠামোগত উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্যই তিনি শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করেছেন।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসমাইল জবিউল্লাহ বাংলাদেশ সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ আমলা হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ছিলেন। এর আগে তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন।
সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত হন। তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সর্বশেষ উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সাথে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরও অন্যতম নীতি-নির্ধারকের ভূমিকায় ছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, নতুন গঠিত সরকারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন এই সাবেক সচিব। প্রশাসনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, নির্বাচন পরিচালনা এবং দলের নীতি-নির্ধারণী কাজে ধারাবাহিক সম্পৃক্ততার কারণেই ইসমাইল জবিউল্লাহকে স্থায়ী কমিটিতে এনে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।



