নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিজয়ী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের বাসায় শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় আইভী তার তৈমূর “চাচাকে” মিষ্টি মুখ করান। তৈমূরও তার “ভাতিজি” আইভীকে মিষ্টিমুখ করান, মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন।
সোমবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর এলাকায় “চাচার” বাসভবনে পৌঁছান আইভী।
এ সময় আভীকে অভিনন্দন জানিয়ে তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, আইভীর বাবা আলী আহম্মদ চুনকার সঙ্গে আমারআধ্যাত্মিক সম্পর্ক। এই সম্পর্ক কখনও নষ্ট হবে না। তার মেয়ে আইভীর পাশে আমি সব বিপদে-আপদে আছি, থাকব। আপনারা সবাই আইভীর জন্য দোয়া করবেন।
“চাচার” কাছ থেকে এসব কথা শুনে মেয়র আইভী বলেন, “ভবিষ্যতে কাজ করতে গেলে আমি অবশ্যই উনার পরামর্শ নেব। আমি পৌরসভার মেয়র থাকাকালে উনার কাছ থেকে অনেক পরামর্শ নিয়েছি। আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক বজায় থাকবে। রাজনীতির জায়গায় রাজনীতি। সম্পর্কের জায়গায় সম্পর্ক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যে যেই দলেরই হই না কেন, আমরা সবাই নারায়ণগঞ্জের মানুষ। আমরা সবাই একসঙ্গে বসবাস করব।”
এর আগে ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯২টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৈমূর আলম খন্দকার পান ৯২ হাজার ১৭১ ভোট।
নির্বাচনে জয়ের পর তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে আইভী বলেছিলেন, “তৈমুর কাকা অনুমতি দিলে মিষ্টি নিয়ে তার বাসায় যাবো। অনুমতি না দিলেও যাবো।”
এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ২৭ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন ১৪৮ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ৯টি পদে ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার পর এবার তৃতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হন তিনি। ২০১১ সালে নির্দলীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমানকে ১ লাখ ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন আইভী।



