ব্যাটারদের ব্যর্থতায় হার দিয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে নিউ জিল্যান্ডের কাছে ২৬ রানে হেরেছে স্বাগতিকরা।
নিউ জিল্যান্ডের ছুঁড়ে দেওয়া ২৪৮ রানের টার্গেটে ২২১ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল টাইগাররা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
টাইগারদের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রথম ৬ ওভারে ১৬ রানের বেশি তুলতে পারেনি নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও নিক কেলি।
সপ্তম ওভারে শরিফুলের হাত ধরে প্রথম উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। ২৩ বলে ৭ রান করা কেলিকে বোল্ড করেন শরিফুল। ৮৮ বলে ৭৩ রান যোগ করেন তারা। ২টি চারে ৩০ রান করা ইয়ংকে শিকার করে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার রিশাদ হোসেন।
নতুন ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ২টি চারে ১৪ রান করেন লাথাম।
তৃতীয় উইকেটে লাথামের সঙ্গে ৩৩ রানের জুটি গড়ার পথে ওয়ানডেতে ১৭তম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে পঞ্চম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান নিকোলস। উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে রিশাদের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ৯টি চারে ৮৩ বলে ৬৮ রান করেন নিকোলস।
দলীয় ১৩১ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে নিকোলস ফেরার পর সতীর্থদের নিয়ে ছোট-ছোট জুটিতে নিউ জিল্যান্ডের রান ২০০ পার করেন ডিন ফক্সক্রফট। বোল্ড আউট হবার আগে ৮টি বাউন্ডারিতে ৫৮ বলে ৫৯ রান করেন ফক্সক্রফট।
ফক্সক্রফট আউটের পর নিউ জিল্যান্ডকে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৪৭ রানের সংগ্রহ এনে দেন নাথান স্মিথ।
১০ ওভার করে বল করে বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৫০ রানে, শরিফুল ২৭ রানে, রিশাদ ৪৪ রানে ২টি করে উইকেট নেন। মিরাজ ও রানা ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
এদিকে, ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ ওভারে ২১ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে নিউ জিল্যান্ড পেসার নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন ২ রান করা তানজিদ।
এরপর ক্রিজে এসে স্মিথের প্রথম ডেলিভারিতেই বোল্ড হন শান্ত। ২১ রানে ২ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশকে লড়াইয়ের ভিত গড়ে দেন সাইফ ও উইকেটরক্ষক লিটন দাস। ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটি গড়েন তারা। এই জুটিতেই ওয়ানডেতে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান সাইফ।
১৩২ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে লিটনকে হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলকে চাপমুক্ত করতে জুটি গড়ার চেষ্টায় সফল তাওহিদ হৃদয় ও আফিফ হোসেন। ৫২ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন তারা। আফিফ যখন ফেরেন তখন ৫ উইকেট হাতে নিয়ে ৫৭ বলে ৬৪ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের।
এরপর নিউ জিল্যান্ড পেসার ব্লেয়ার টিকনার ৪ উইকেট তুলে নিলে হারের মুখে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক মিরাজ ১৪ বলে ৬, রিশাদ ৯ বলে ৪, শরিফুল ১ বলে শূন্য এবং তাসকিন ৫ বলে ২ রানে টিকনারের শিকার হন।
সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝেও এক প্রান্ত আগলে বাংলাদেশের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন হৃদয়। কিন্তু ৪৯তম ওভারে স্মিথের তৃতীয় বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে হৃদয় আউট হলে ২২১ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ| ১২তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ৬০ বলে ৫৫ রানে আউট হন ২টি করে চার-ছক্কা মারা হৃদয়|
নিউ জিল্যান্ডের টিকনার ১০ ওভারে ৪০ রানে ৪ উইকেট নেন। স্মিথের নেন ৩ উইকেট। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিউ জিল্যান্ড।



