পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফেরাল স্বাগতিক বাংলাদেশ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারী নিউ জিল্যান্ডকে। সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ২৬ রানে জিতেছিল কিউইরা।
প্রথমে ব্যাট করে রানার বোলিং তোপে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ড। ১০ ওভার বল করে ৩২ রানে ৫ উইকেট নেন রানা। জবাবে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে ৮৭ বল বাকি থাকতে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ। তানজিদ সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন। শান্ত ৫০ রানে আহত হয়ে অবসর নেন।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ে নামে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টাইগারদের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রথম ৭ ওভারে ২৫ রান তুলেন নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও নিক কেলি।
অষ্টম ওভারে পেসার রানাকে বোলিংয়ে আনেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ডেলিভারিতেই উইকেটের দেখা পান রানা। ১৩ রান করা নিকোলসকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রানা। তিন নম্বরে নামা নতুন ব্যাটার উইল ইয়ংকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি রানা। নিজেদের দ্বিতীয় ওভারে ইয়ংকে ২ রান দিয়ে শিকার করেন তিনি।
পরপর দুই ওভারে রানার জোড়া আঘাতের পর বাংলাদেশকে তৃতীয় উইকেট এনে দেন ছয় মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা মিডিয়াম পেসার সৌম্য সরকার। নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথামকে ১৪ রানে বিদায় দেন সৌম্য।
৫২ রানে ৩ উইকেট পতনের পর নিউ জিল্যান্ডকে চাপমুক্ত করেন কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস। চতুর্থ উইকেটে ৬৬ বলে ৫৬ রান যোগ করে দলের স্কোর ১০০ পার করেন তারা।
হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসকে বড় করে শতকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কেলি। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৩ রানে শরিফুলের বলে মিড উইকেটে তাওহিদ হৃদয়কে ক্যাচ দেন তিনি। ১০২ বল খেলে ১৪টি বাউন্ডারি হাঁকান কেলি।
দলীয় ১৪৫ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে কেলি ফেরার পর নিউ জিল্যান্ডের পরের দিকের ব্যাটারদের বড় ইনিংস খেলতে দেননি রানা-রিশাদরা। এতে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ড।
ওয়ানডেতে নিজের দশম ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করলেন রানা। শরিফুল ৩২ রানে ২টি, তাসকিন ৪৬ রানে, সৌম্য ২৭ রানে ও রিশাদ ২১ রানে ১টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য ১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারের শেষ বলে ওপেনার সাইফ হাসানকে হারায় বাংলাদেশ। ২টি চারে ৮ রান করে নিউ জিল্যান্ড পেসার ন্যাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন তিনি। তিন নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য। ১ ছক্কায় ৮ রানে বিদায় নেন তিনি।
২১ রানে ২ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ছক্কা মেরে ৩৩ বলে ওয়ানডেতে ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ। দলীয় ১৪১ রানে থামেন তানজিদ। স্পিনার জেইডেন লেনক্সের শিকার হবার আগে ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৮ বলে ৭৬ রান করেন তানজিদ।
তানজিদের বিদায়ে ক্রিজে এসে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি শততম ওয়ানডে খেলতে নামা লিটন দাস। এরপর ওয়ানডেতে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান শান্ত। ১৩ ইনিংস পর ওয়ানডেতে অর্ধশতকের দেখা পেলেন তিনি। তবে ক্র্যাম্প সমস্যায় আহত অবসর নেন শান্ত। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৭১ বলে ৫০ রান করেন শান্ত।
পঞ্চম উইকেটে ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৮৭ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ। ৫টি চারে হৃদয় ৩০ এবং মিরাজ ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্য্যাচ সেরা হন রানা।



