Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

দীর্ঘ ১৩ বছর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয় টাইগারদের

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

দীর্ঘ ১৩ বছর পর নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি এবং পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের ৫ উইকেটের যোগাযোগে এ জয় পায় টাইগাররা।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সিরিজ নির্ধারনী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশ ৫৫ রানে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ডকে। ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতল টাইগাররা।

প্রথম ওয়ানডে ২৬ রানে জিতে সিরিজ শুরু করেছিল নিউ জিল্যান্ড। পরের ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ।

২০১৩ সালে সর্বশেষ নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। এরপর নিউ জিল্যান্ডের কাছে পাঁচটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারে টাইগাররা।

এনিয়ে তৃতীয়বার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ, যার সবগুলোই ঘরের মাটিতে। 

চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউ জিল্যান্ড পেসার উইলিয়াম ও’রুর্কের তোপে ৩২ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

৩টি চারে ইনিংস শুরু করা সৌম্য সরকার বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ও’রুর্কের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে ২৬ বলে ১৮ রান করেন তিনি।

নবম ওভারে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন শান্ত ও লিটন দাস। সাবধানে খেলে ২৫তম ওভারে দলের রান ১০০ তে নেন তারা। পরের ওভারে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান ৭০ বল খেলা শান্ত।

অন্যপ্রান্তে ৬০ বলে এসে প্রথম বাউন্ডারির দেখা পান লিটন। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ-সেঞ্চুরি পেতে ৭১ বল খেলেন তিনি।

৩৯তম ওভারে দলীয় ১৯২ রানে নিউ জিল্যান্ডের বাঁ-হাতি স্পিনার জেডেন লেনক্সের বলে বোল্ড হন লিটন। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৯১ বলে ৭৬ রানে থামেন তিনি।

লিটন ফেরার পর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৬৪তম ম্যাচে চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পান শান্ত। সেঞ্চুরির পর বেশি দূর যেতে পারেননি শান্ত। ১১৯ বল খেলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০৫ রানে আউট হন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। 

২৫ মাস ও ২০ ইনিংসে পর ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন শান্ত। ২০২৪ সালের মার্চে সর্বশেষ চট্টগ্রামে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১২২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি ।

৪৩তম ওভারে দলীয় ২২১ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে শান্ত ফেরার পর তাওহিদ হৃদয় ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ছোট ইনিংসের সুবাদে ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৬৫ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

নিউ জিল্যান্ডের ও’রুর্ক ৩টি, বেন লিস্টার ও জেইডেন লেনক্স ২টি করে উইকেট নেন।

এরপর, ২৬৬ রান তাড়া করতে নেমে দলীয় ৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় নিউ জিল্যান্ড। ওপেনার হেনরি নিকোলসকে ৪ রানে বিদায় দেন মুস্তাফিজ। দ্বিতীয় উইকেটে ৪৬ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠেন নিক কেলি ও উইল ইয়ং। ১৯ রান করা ইয়ংকে শিকার করে জুটি ভাঙেন পেসার নাহিদ রানা।

অধিনায়ক ল্যাথামকে ৫ রানে আউট করে নিউ জিল্যান্ডকে চাপে ফেলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬১ রানে ৩ উইকেট হারায় কিউইরা। চতুর্থ উইকেটে ৪৭ রানের জুটিতে নিউ জিল্যান্ডের স্কোর ১০০ পার করেন কেলি ও মুহাম্মদ আব্বাস। এই জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরি পান কেলি।

দলীয় ১০৮ রানে কেলিকে বিদায় করেন মুস্তাফিজ। ৬টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৯ রান করেন কেলি। এরপর আব্বাসকে ২৫ রানে শরিফুল ইসলাম এবং জশ ক্লার্কসনকে ৬ রানে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন দেখান রানা।

১৩৭ রানে ৬ উইকেট পতনে ধুঁকতে থাকা নিউ জিল্যান্ডকে বড় হারের মুখে ঠেলে দেন মুস্তাফিজ। ন্যাথান স্মিথ ও লেনক্সকে ২ এবং ও’রুর্ককে ১ রানে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি।এতে ১৬০ রানে নবম উইকেট হারায় নিউ জিল্যান্ড। এসময় ইনিংসে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন ফিজ।

শেষ উইকেটে বেন লিস্টারকে নিয়ে ৩১ বলে ৫০ রানের জুটিতে নিউ জিল্যান্ডকে লজ্জা থেকে রক্ষা করেন ডিন ফক্সক্রফট। ৪৫তম ওভারে মিরাজের বলে ফক্সক্রফট আউট হলে ২১০ রানে গুটিয়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। ৭টি ছক্কায় ৭৫ রান করেন ফক্সক্রফট।

৯ ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। এনিয়ে ষষ্ঠবার ইনিংসে ৫ বা ততোধিক উইকেট নিলেন তিনি। এছাড়া মিরাজ ও রানা ২টি করে উইকেট নেন।

ইনিংসে ম্যাচ সেরা শান্ত এবং ৮ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরা হয়েছেন নাহিদ রানা।

   

About

Popular Links

x