বিশ্বকাপের আগে ফুটবলের রেফারিং ব্যবস্থায় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ফিফা। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এর ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব পরিবর্তন অনুমোদন করেছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কর্নার কিক বা ফ্রি-কিক নেওয়ার ঠিক আগে পেনাল্টি বক্সে কোনো ফাউল বা অপরাধ সংঘটিত হলে এবং তার সরাসরি প্রভাবে গোল বা পেনাল্টির সিদ্ধান্ত আসে, সেক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারবে। ভিডিও রিভিউয়ের মাধ্যমে রেফারি নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট গোল বা পেনাল্টি বাতিল করা হবে এবং কর্নার কিংবা ফ্রি-কিকটি পুনরায় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি দায়ী খেলোয়াড়কে প্রয়োজনীয় শাস্তিও দেওয়া হবে।
ফিফার রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান পিয়েরলুইজি কলিনা এ নিয়মের উদাহরণ হিসেবে মার্চে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড-উরুগুয়ে ম্যাচের একটি ঘটনা উল্লেখ করেন। তার মতে, ইংল্যান্ডের বেন হোয়াইটের গোলটি বৈধ হওয়া উচিত ছিল না, কারণ কর্নার কিক নেওয়ার আগে অ্যাডাম হোয়ার্টন উরুগুয়ের ডিফেন্ডার হোসে মারিয়া গিমেনেজকে স্পষ্টভাবে বাধা দিয়েছিলেন।
এ ছাড়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড থেকে লাল কার্ডের ঘটনায়ও সীমিত পরিসরে ভিএআর ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ করে ভুল খেলোয়াড়কে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানো হলে সেটি পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে গোল কিকের পরিবর্তে ভুলবশত কর্নার কিক দেওয়া হয়েছে কি না, তাও যাচাই করতে পারবে ভিএআর।
খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিফা। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কেউ যদি হাত, বাহু বা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে এমনভাবে কথা বলেন, যা গোপন বা উত্তেজনাপূর্ণ যোগাযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তাহলে রেফারি কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী লাল কার্ডও দেখানো হতে পারে। তবে স্বাভাবিক কথোপকথনের ক্ষেত্রে কোনো শাস্তি হবে না।
এ ছাড়া চোটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে খেলার গতি নষ্ট করা বা চিকিৎসার বিরতিকে দলীয় কৌশলগত বৈঠকের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর প্রবণতা নিরুৎসাহিত করতে চায় ফিফা। অনেক সময় গোলকিপারের চিকিৎসা চলাকালে অন্য খেলোয়াড়রা টাচলাইনে গিয়ে কোচের কাছ থেকে নির্দেশনা নেন, যা কার্যত “ট্যাকটিক্যাল টাইমআউট” এ পরিণত হয়।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের কোচদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কলিনা জানান, গোলকিপার আহত হতে পারেন, কিন্তু সেই সুযোগে অন্য খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে কোচের সঙ্গে দলীয় বৈঠক করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে খেলাকে আরও ন্যায়সঙ্গত, স্বচ্ছ এবং গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়েছে ফিফা।



