Sunday, June 07, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিশ্বকাপ ট্রফিতে কতটুকু স্বর্ণ থাকে, দাম কত, না জানা যত ইতিহাস

৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি পরিবারই পরম যত্নে তৈরি করে আসছে ফুটবলের এই পরম আরাধ্য ট্রফি

আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বস্তু হলো সোনালি রঙের সেই বৈশ্বিক শিরোপা তথা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। এই ট্রফিটি ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন দেখেন বিশ্বের বাঘা বাঘা ফুটবলাররা, আর একে ঘিরে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলেরও যেন শেষ নেই। তবে অনেকেরই হয়তো জানা নেই, বিগত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে একটি নির্দিষ্ট ইতালীয় পরিবারই পরম যত্নে তৈরি করে আসছে ফুটবলের এই পরম আরাধ্য ট্রফি।

১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী 'জুলে রিমে ট্রফি' স্থায়ীভাবে সেলেসাওদের দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৭১ সালে নতুন ট্রফির নকশা আহ্বান করে ফিফা। সেখানে সাতটি দেশের ৫৩ জন বিখ্যাত ভাস্করের নকশাকে পেছনে ফেলে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয় ইতালির মিলান শহরের শিল্পী সিলভিও গাজ্জানিগার তৈরি করা এই 'ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি'।

দুটি মনুষ্যমূর্তি হাত উঁচিয়ে গোলাকার পৃথিবী সদৃশ একটি গোলককে ধরে রেখেছে, এটাই বর্তমান ট্রফির মূল বৈশিষ্ট্য। ট্রফিটির ভেতরের অংশটি সম্পূর্ণ ফাঁপা নয়, বরং এর মূল কাঠামো তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে মূল্যবান খনিজ ম্যালাকাইট।

উপাদান: ১৮ ক্যারেট খাঁটি সোনা।
উচ্চতা: ১৪ ইঞ্চি (৩৬.৫ সেন্টিমিটার)।
ওজন: ১৩ পাউন্ড (প্রায় ৬.১৭ কেজি)।
বাজারমূল্য: প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ২৩৫ কোটি টাকারও বেশি)।

১৯৭১ সালে যখন এই ট্রফিটি প্রথম তৈরি করা হয়েছিল, তখন এর পেছনে খরচ হয়েছিল মাত্র ৫০ হাজার ডলার। তবে সোনার দাম বৃদ্ধি এবং এর ঐতিহাসিক মূল্যের কারণে বর্তমানে এর বাজারমূল্য আকাশচুম্বী।

বিশ্বকাপ ট্রফির রূপকার সিলভিও গাজ্জানিগা ইতালির মিলানের বিখ্যাত 'বার্তোনি ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি'র হয়ে কাজ করতেন। সেই ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানের কাঁধেই রয়েছে বিশ্বকাপ ট্রফি তৈরি এবং রক্ষণাবেক্ষণের গুরুদায়িত্ব। সিলভিও গাজ্জানিগার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে জর্জিও গাজ্জানিগা বর্তমানে পারিবারিক এই ঐতিহ্যের দেখাশোনা করছেন। এই বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি শুধু ফুটবল বিশ্বকাপই নয়, উয়েফা কাপ এবং ইউরোপিয়ান সুপার কাপের মতো বিশ্বমঞ্চের মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিগুলোও তৈরি করে থাকে।

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফাইনালে জেতার পর মাঠের উদযাপনের সময়টুকুতেই কেবল আসল ট্রফিটি ছোঁয়ার সুযোগ পায় চ্যাম্পিয়ন দল। উৎসব শেষ হতেই আসল ট্রফিটি আবার কড়া নিরাপত্তায় সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফার সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থায়ীভাবে আসল ট্রফিটি কোনো দেশকেই নিজেদের কাছে রাখতে দেওয়া হয় না। এর পরিবর্তে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলকে ব্রোঞ্জের ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া হুবহু একটি বিশেষ প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা ট্রফি দেওয়া হয়, যা তারা স্থায়ীভাবে নিজেদের শোকেসে সাজিয়ে রাখতে পারে।

   

About

Popular Links

x