Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিল গেটস: গাছ লাগিয়ে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা সম্ভব নয়

বিল গেটস বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত নয়, এমন সব অ্যাপ্রোচকে আমি খুব একটা ব্যবহার করি না। যেমন, আমি বৃক্ষরোপণ করি না

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:২৩ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রভাবের মুখোমুখি পুরোবিশ্ব। তৃতীয় বিশ্ব ও স্বল্পআয়ের দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের মতো কার্যক্রমকে খুব একটা কার্যকর বলে মনে করেন না মার্কিন ধনকুবের বিল গেটস।

শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত “নিউ ইয়র্ক টাইমস ক্লাইমেট ফরওয়ার্ড সামিট” এ অংশ নিয়েছিলেন মাইক্রোসফটের এই সহপ্রতিষ্ঠাতা। সেখানেই এমন মন্তব্য করেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইয়াহু নিউজ।

বিল গেটস বলেন, “বৈজ্ঞানিকভাবে সম্পূর্ণরূপে প্রমাণিত নয়, এমন সব অ্যাপ্রোচকে আমি খুব একটা ব্যবহার করি না। যেমন, আমি বৃক্ষরোপণ করি না।”

গেটসের এমন মন্তব্য শুনে নিউইয়র্ক টাইমসের ক্লাইমেট করেসপন্ডেন্ট ডেভিড গেলেস বলেন, “অনেকেই তো মনে করে যে, আমরা যদি বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করি, তবে এটি সম্পূর্ণরূপে জলবায়ু সমস্যা সমাধানে কাজ করবে।”

জবাবে বিল গেটস বলেন, “জলবায়ু সংকট সমাধানের জন্য গাছ লাগানো ‘একদম ফালতু ব্যাপার’। আমরা কি বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হতে চাই না-কি অজ্ঞ মানুষ হতে চাই?”

অবশ্য বিল গেটসের এমন দাবি একদম উড়িয়ে দেওয়ারও কোনো কারণ নেই। জলবায়ু বিজ্ঞানীরা দেখেন যে, শুধু প্রচুর গাছ লাগানো হলেই সেটি বৈশ্বিক উষ্ণতা থামাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারবে না। কারণ ওই গাছগুলো বড় হতে এবং পার্থক্য তৈরি করার মতো যথেষ্ট কার্বন শোষণ করতে দীর্ঘ সময় লাগে।

এ বছরের শুরুর দিকে এমআইটি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইনটিরেকটিভের যৌথ এক গবেষণায় দেখা যায়, যদি এক ট্রিলিয়ন গাছও রোপণ করা হয় তবে সেটি ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা মাত্র ০.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে পারবে।

বিল গেটস জানান, ক্লাইমওয়ার্কস নামের এক প্রতিষ্ঠান পরিবেশ থেকে সরাসরি কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণের জন্য প্রযুক্তি তৈরি করে থাকে। আর এই কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় ক্লায়েন্ট তিনি।

ক্লাইমওয়ার্কসের কার্বন ক্যাপচার প্ল্যান্টের মাধ্যমে ০.৪২ একর জমি ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৪ হাজার টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ সম্ভব। যেটি ওই একই জমিতে বৃক্ষরোপণের তুলনায় ১ হাজার ভাগ বেশি কার্যকর।

এমন পরিস্থিতি বিবেচনায় বিল গেটস জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তি নির্ভরশীল পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিজের বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে জলবায়ু নিয়ে কাজ করা ইনভেস্টমেন্ট ফার্ম, এনার্জি ভেঞ্চার ও স্টার্টআপে সেই শর্তে বহু অর্থ প্রদান করে থাকেন।

বিল গেটস জলবায়ু সমস্যা মোকাবিলায় সরকারকে সহায়ক নানা পলিসি প্রণয়নে উদ্যোগী হতে আহ্বান জানান। এরমধ্যে ভর্তুকি প্রদান, কার্বন ট্যাক্সের আদায়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

বিল গেটস বলেন, “আমি মনে করি, আমাদের জলবায়ু পরিবর্তনে অনেক অর্থ ব্যয় করা উচিত। কার্বন ট্যাক্সের পরিমাণও অনেক বাড়ানো উচিত। রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় উদ্ভাবন ছাড়া এই সমস্যা মোকাবিলা করা অসম্ভব।”

   

About

Popular Links

x