Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইনসুলিন নেওয়া যাবে স্প্রে করেই

প্রতিদিন সূচ ফোটানোর ব্যথা আর সহ্য করতে হবে না

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:১৬ পিএম

সূচ ফুটিয়ে, শরীরকে যন্ত্রণা দিয়ে ইনসুলিন নেওয়ার দিন শেষ। ২০২৫ সালের জুন মাসের দিকে ভারতের বাজারে আসছে ওরাল ইনসুলিন স্প্রে। মাউথ ফ্রেশনারের মতো মুখে স্প্রে করেই ডোজ নেওয়া যাবে।

দিনে তিন-চার বার দেহে সূচ ফুটিয়ে ইনসুলিন নেওয়াটা কষ্টকর। ঝক্কিও অনেক। অনেকেই সেজন্য ইনসুলিন নেওয়া শুরু করে মাঝপথে বন্ধ করে দেন। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় ইনসুলিন সংরক্ষণ করার ঝামেলাও কম নয়। ওরাল ইনসুলিনে এসব কিছুই থাকবে না। মাউথ ফ্রেশনারের মতো পকেটেও নেওয়া যাবে। আর এর কার্যকারিতাও অনেক বেশি।

এই মুহূর্তে অন্তত ১৪টি দেশ ওরাল ইনসুলিন স্প্রে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। পৃথিবীর কয়েক লক্ষ মানুষ তা ব্যবহারও করছেন।

২০১৫ সালে ওরাল ইনসুলিন প্রথম তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের কানেক্টিকাটের ম্যানকাইন্ড কর্পোরেশন। দেশটির “ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন” (এফডিএ) ওষুধটিকে স্বীকৃতি দেয়। এর নাম “আফ্রেজা”। সেটি ভারতের বাজারে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছিল।

বিভিন্ন জায়গায় ওষুধটির ট্রায়াল সফল হওয়ার পর ভারতের কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা অনুমোদন দেয়। তার পরেই যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানকাইন্ড কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতীয় কোম্পানি সিপলা।

এরপর ভারতেও ওরাল ইনসুলিন স্প্রে তৈরির অনুমতি পায় ওষুধ প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান সিপলা। সিপলার এমডি উমঙ্গ বোহরা বলছেন, “যাদের প্রতিদিন ইনসুলিন নিতে হয়, তাদের জন্য বড় উপহার হতে চলেছে এই ওরাল স্প্রে।”

ওরাল ইনসুলিনের দাম বা এটি কী মাত্রায় নিতে হবে, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সিপলা।

এই ইনসুলিন কিভাবে কাজ করবে

ওরাল ইনসুলিন স্প্রে করার সঙ্গে সঙ্গে সেটি লালায় মিশে গিয়ে পৌঁছাবে ফুসফুসে ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গে। তার পর রক্তের সঙ্গে মিশে গিয়ে কাজ করা শুরু করবে। এই ওরাল ইনসুলিনের ডোজ নেওয়ার ১২ মিনিটের মধ্যে কাজ করা শুরু করবে। আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রক্তে বাড়তি শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই কার্যকরী হবে এই ওষুধ বলে জানিয়েছে সিপলা।

ইন্ডিয়া ডায়াবেটিক ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর ড. দেবেন প্রহরাজ বলছেন, “ওরাল ইনসুলিন নেওয়ার ১২ মিনিটের মধ্যে এটি কাজ করা শুরু করবে। আড়াই থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টার মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করবে। টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এটি দারুণ কার্যকর হবে।”

 

   

About

Popular Links

x