অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর উদ্ভাবনী মেধা যে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানাতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন যশোরের তরুণ ওয়াকিমুল ইসলাম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এই কলেজছাত্রের নিজের হাতে বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে অনন্য এক উৎসাহ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৯ মে) সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এক আনন্দঘন ও অনুপ্রেরণামূলক পরিবেশে এই ব্যতিক্রমী সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ওয়াকিমুল ইসলামের পথচলা সহজ ছিল না। এক সময় বিশেষ শারীরিক অবস্থার কারণে ঘরের চার দেয়ালে বন্দি থাকতে হতো তাকে। কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্র নন তিনি। কীভাবে একাকী বাইরে চলাচল করা যায়, সেই তাড়না থেকেই শুরু করেন গবেষণার কাজ। নিজের মেধা ও দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি তৈরি করেন ব্যাটারিচালিত বিশেষ এই যান, যার নাম দিয়েছেন ‘এ টু আই স্মার্ট কার’। তার এই উদ্ভাবনী যানটি কেবল তার একাকী চলার স্বপ্ন পূরণ করেনি, বরং আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সান্নিধ্যে।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গভীর মনোযোগ দিয়ে ওয়াকিমুলের কাছ থেকে তার উদ্ভাবনের গল্প শোনেন। শুধু দেখাই নয়, ওয়াকিমুলের বানানো সেই ছোট বাহনটিতে চড়ে বসেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে পাশে বসিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ১৭ বছরের এই তরুণ। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন সাশ্রয়ী ও কার্যকর বাহন তৈরি করায় ওয়াকিমুলের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ওয়াকিমুলকে বাহনটি আরও আধুনিক এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করার পরামর্শ দেন এবং এ ধরনের সৃজনশীল কাজে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ওয়াকিমুলের এই ‘স্মার্ট কার’ কেবল একটি যান নয়, এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের চলাফেরায় এক নতুন আশার আলো। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) নির্বাহী পরিচালক আবদুস সাত্তার দুলাল জানান, বৈদ্যুতিক চার্জে চলা এই গাড়িটি একবার চার্জ দিলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এর ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতিবেগ ৪৫ কিলোমিটার। ওয়াকিমুলের মতে, সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরও উন্নত সেন্সর ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর মান বৈশ্বিক পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব।
মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ওয়াকিমুলের এই অর্জন দেশের লাখো তরুণের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর সন্তান হয়েও সীমিত সম্পদে যে বড় স্বপ্ন দেখা যায় এবং তা বাস্তবায়ন করা যায়, ওয়াকিমুল আজ তারই প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি অংশগ্রহণ ও উৎসাহ প্রদান প্রমাণ করে যে, উদ্ভাবন ও মেধার মূল্যায়নে বর্তমান সরকার কতটা আন্তরিক। ওয়াকিমুলের মতো তরুণদের হাত ধরেই আগামীর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



