ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
সংস্কার শেষে রোববার ডাকসুর সংগ্রহশালা চালু করা হয়। ছাত্রদলের অভিযোগ, সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কোনো একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি স্থান না পেলেও পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে।
“মধুর ক্যান্টিনের নাম পরিবর্তন করে ‘ইশরাত মজলিস’ করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা থেকে শুরু করে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর বিতর্কিত ছবি স্থাপন, এসব ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদল জানায়, ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই বক্তব্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
ছাত্রদলের দাবি, ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ভূমিকা গভীরভাবে জড়িত। সেই প্রেক্ষাপটে ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা।
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর আরও দুটি ছবি রয়েছে বলে জানা গেছে। এর একটি ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি। অন্যটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের ডন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের পেপার কাটিং, যেখানে জিন্নাহর ছবি রয়েছে।
ছাত্রদলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসুর বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। সংগঠনটি দাবি করে, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসন, ন্যায্য অধিকার আদায় এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বর্তমান পরিষদ ব্যর্থ হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের পরিবর্তে ডাকসুকে একটি নির্দিষ্ট দলীয় ও আদর্শিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক স্মারক ও চেতনাকে বিকৃত করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, ডাকসুর সংগ্রহশালা থেকে বাংলা ভাষার বিরোধিতাকারী মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে ডাকসুকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আদর্শ চর্চার স্থান হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
তারা আরও জানান, ১৯৪৮ সালে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জিন্নাহর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রতিবাদ করেছিলেন, একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিকামী চেতনা রক্ষায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।



