Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আরডিসি নাজিম: আমি না, রিন্টু বিকাশ মেরেছে

আরডিসি নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে সহকারী কমিশনার রিংকু বিকাশ চাকমাকেও কুড়িগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২০, ০৪:৫৭ পিএম

ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে গিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের নেতৃত্বদানকারী কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আরডিসি (সিনিয়র সহকারী কমিশনার-রাজস্ব) নাজিম উদ্দিনের বাড়ি যশোরের মণিরামপুরে। ঢাকা ট্রিবিউনের যশোর প্রতিনিধির কাছে তিনি সোমবার (১৬ মার্চ) দাবি করেছেন, সাংবাদিক আরিফুলকে তিনি মারধর করেননি, মেরেছেন সদ্য প্রত্যাহার হওয়া সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা।

নাজিম বলেন, “আমি আরিফ ভাইকে মারিনি। আমাদের যে শাস্তি হওয়ার হয়েছে। ওই ঘটনায় আমাদের যাদের নাম এসেছে তাদের সবাইকে ওএসডি করা হয়েছে।”

তার বিষয়ে আর কোনো প্রতিবেদন না প্রকাশের অনুরোধ জানিয়ে নাজিম আরও বলেন, আমার দুটি বাচ্চা, স্ত্রী। ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও বিবেচনা করুন।


আরও পড়ুন- আরিফুলকে 'কলেমা পড়িয়ে এনকাউন্টারে' দিতে চান সহকারী কমিশনার!


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শৈশব থেকেই তিনি মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের কাশিপুর কাঁঠালতলা গ্রামের নানাবাড়িতে থাকতেন নাজিম। সেখানে আড়াই কাঠা জমির উপরে নির্মিত সুন্দর একটি বাড়িতে তার মা মাজেদা বেগম, স্ত্রী সাবিনা সুলতানা ও দুটি জমজ শিশু সন্তান রয়েছে।

এদিকে, মণিরামপুর পৌরসভার ভগবানপাড়ায় ৮ শতক জমিতে আরও একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনেরও যৌথ মালিকানায় রয়েছেন নাজিম উদ্দিন।

ভবনটির নির্মাণকাজের অন্যতম ঠিকাদার আতিয়ার রহমান বলেন, ২০১৭ অথবা ২০১৮ সালে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে জমিটি কেনা হয়। আর ভবনটির নির্মাণকাজে এখন পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে পঞ্চাশ লাখ টাকারও বেশি।


আরও পড়ুন- ‘আরিফুলকে সাজা দেওয়ার ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে’


নির্মিতব্য বিলাসবহুল বাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিম উদ্দিন বলেন, জমিটি আমার ভায়রা ভাইয়ের (শ্যালিকার স্বামী) টাকায় কেনা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। এই বাড়ির মালিকানা তার ৭০ শতাংশ, আমার ৩০ শতাংশ। 

বাড়িটির জন্য ঋণ পেতে সোনালী ব্যাংকে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

৩৩তম বিসিএস-এ উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৪ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন নাজিম উদ্দিন। এর আগে তিনি প্রায় দেড় বছর এক্সিম ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পরপরই নিজামদের পারিবারিক অবস্থার রাতারাতি পরিবর্তন হতে শুরু করে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা হাসানুল বারী জানান, নাজিমদের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তার মা লোকের বাড়িতে কাজ করতেন। খুব কষ্ট করে তাকে পড়ালেখা শিখিয়েছে পরিবার।


আরও পড়ুন - সাধারণ মানুষকে নির্যাতন নাজিম উদ্দিনের জন্য নতুন নয় (ভিডিও)


প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) গভীর রাতে ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চোখ বেঁধে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করা হয় ঢাকা ট্রিবিউনের সাংবাদিক আরিফুল ইসলামকে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই ঘটনার নেতৃত্ব দেন কুড়িগ্রামের সাবেক আরডিসি নিজাম উদ্দিন, সহকারী কমিশনার রিন্টু বিকাশ চাকমা ও এস এম রাহাতুল ইসলাম। এই অপরাধে ইতোমধ্যে ডিসি সুলতানা পারভীনসহ তাদের তিনজনকেই প্রত্যাহার করে নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

   

About

Popular Links

x