জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক সংসদ সদস্য ও বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আবদুল হাই বাচ্চুর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি দেশে না বিদেশে তার কোনো সুনির্দিষ্ট বা সুস্পষ্ট তথ্য নেই।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের ধারণা, বাচ্চু এখনও দেশেই আছেন। তিনি পালানোর চেষ্টা করছেন।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাচ্চু একটি অভিনব আর্থিক কেলেঙ্কারি চক্রের নেতৃত্ব দেন। চক্রটি বন্ধকী লেনদেন, বন্ধকীর অতিরিক্ত মূল্যায়ন এবং বন্ধকী ছাড়াই বেসিক ব্যাংক লিমিটেড থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল।
সহযোগীদের যোগসাজশে বিভিন্ন মাধ্যমে ২,২৬৫.৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতে জড়িত থাকায় বাচ্চুর বিরুদ্ধে ৫৯টি মামলা করা হয়।
জাপার জেলা শাখার তৎকালীন সভাপতি বাচ্চু ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাগেরহাট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৮৮-৯০ সাল পর্যন্ত বাগেরহাট জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথা অনুযায়ী শিল্প সচিব পদে অধিষ্ঠিত থাকলেও ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বাচ্চু তিন বছরের জন্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। দুর্নীতির খবর থাকা সত্ত্বেও তার নিয়োগ আরও দুই বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছিল।
২০১৪ সালের জুলাইয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে একরকম ধোঁয়াশা রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বাচ্চু যাতে পালাতে না পারেন সে জন্য সব স্থল, নৌ ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। গোয়েন্দারাও তৎপর হয়ে উঠেছেন। এছাড়াও আদালত থেকে এরই মধ্যে তার বিদেশযাত্রায় ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের বহিরাগমন শাখাসহ (ইমিগ্রেশন) সব বন্দর কর্তৃপক্ষকে।
এছাড়া বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় চার্জশিটভুক্ত ১৪৭ আসামির মধ্যে ৭৩ জনকে চিহ্নিত করে তাদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া ঠেকাতেও কাজ করার দাবি করছে দুদক।
গত ২০ জুন দুদকের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বাচ্চুর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আবেদন করেন। পরদিন এক আদেশে বিচারক আসাদুজ্জামান ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
মোরশেদ আলম তার আবেদনে বলেন, আসামি বিদেশে পালিয়ে গেলে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ব্যাহত হবে। তবে দুদকের আবেদনে তার বর্তমান অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
দুদকের অন্যান্য সূত্র জানায়, বাচ্চু দেশে রয়েছে এবং তারা বাচ্চুর সম্পর্কে সর্বশেষ ইমিগ্রেশন তথ্য জেনেছে- তিনি সর্বশেষ এ বছরের ৫ এপ্রিল দুবাই গিয়েছিলেন। সেখান থেকে কানাডায় গিয়ে ৮ জুন ঢাকায় ফিরে আসেন।
বাচ্চুকে গ্রেপ্তার ও বিদেশে পালিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দুদক কমিশনার (তদন্ত) মোজাম্মেল হক খান বলেন, “বাচ্চুকে বিচারের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
“তবে, তিনি আত্মসমর্পণ করতে এবং বিচারের মুখোমুখি হতে আদালতে গেলে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হবেন,” তিনি যোগ করেন।



