উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এয়ারকন্ডিশনারের চাহিদা অতি দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে তাপমাত্রাও বাড়ছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর টেকসই সমাধান না হলে জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।
জাতিসংঘের পরিবেশ সংস্থা এবং বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি খাত প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) জানিয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এয়ারকন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেটরের চাহিদা আফ্রিকায় ৭ গুণ এবং এশিয়ায় ৪ গুণ বৃদ্ধি পাবে।
আইএফসি’র প্রধান মাখতার দিওপ এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই দেশগুলো দ্রুত বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রার মারাত্মক বিরূপ প্রভাবের জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। এসব দেশের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ব্যাবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার পাশাপাশি জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অনেক উন্নয়নশীল দেশে নগরায়ন এয়ার কন্ডিশনের চাহিদা বাড়িয়ে তুলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ খাতে এরই মধ্যে বিশ্বের মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের ৫ ভাগের ১ ভাগ খরচ হয়। ২০৫০ সালের মধ্যে এ খাতে চাহিদা ৩ গুণ হলে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াবে মোট চাহিদার ৮০ শতাংশ।
জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর বিরূপ প্রভাব এবং ফসল ও ভ্যাকসিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে এয়ারকন্ডিশনার অত্যাবশ্যক। কিন্তু এ পরস্পর বিরোধী প্রয়োজনীয় বিষয় ২টির মধ্যে একটি ভারসাম্য আনা প্রয়োজন।
নাইরোবিতে অবস্থিত ইউএনইপি’র নির্বাহী পরিচালক ইঞ্জার অ্যান্ডারসেন বলেছেন, “যেখানে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড একের পর এক ভেঙে যাচ্ছে, সেখানে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ এ দু্ইয়ের জন্যই তাপমাত্রা কমিয়ে রাখা অপরিহার্য।
তিনি আরো বলেছেন, “তবে আমাদের গ্রহটিকে আরও উত্তপ্ত করে এমন সমাধানের মাধ্যমে শীতল করার ক্রমাগত চাহিদা পূরণ অবশ্যই এড়াতে হবে।”



