স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে খেলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৭৮ হাজার রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকের যে বিশাল গর্জনে বুক কেঁপে কেঁপে উঠছিল বার্সেলোনার তরুণ খেলোয়াড়দের, দ্বিতীয়ার্ধের কিছুক্ষণ পর থেকে সেই উল্লাস কোথায় যেন মিলিয়ে গেল, আর এক কোনায় থাকা মাত্র ৪০০ ব্লাউগ্রানা সমর্থকের চিৎকারে ছাপিয়ে গেল গোটা গ্যালারির স্তব্ধতা। বার্সেলোনাকে আরও একবার হারিয়ে, কিংবা অন্তত হার এড়িয়ে বার্সারই টানা জয়ের রেকর্ড ভাঙার যে স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন ভিনিসিয়াস-এমবাপ্পে-বেলিংহামরা, ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই সেই স্বপ্ন ভেঙে খানখান হয়ে গেল।
স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে লা লিগায় মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের মাঠেই বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে হান্সি ফ্লিকের ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া বার্সেলোনা। ২০২২ সালের ২০ মার্চের পর ঘরের মাঠে এটিই রিয়ালের সবচেয়ে বড় হার। ওই ম্যাচটিও তারা হেরেছিল বার্সেলোনার কাছেই, একই ব্যবধানে। বিরতির পর ৫৪ থেকে ৮৪ মিনিট যেন রিয়ালের কাছে এক দুঃস্বপ্ন। আর এই দুই দুঃস্বপ্নের ৩০ মিনিট ভুলে যেতে চান রিয়াল মাদ্রিদ কোচ কার্লো আনচেলত্তি।

মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে এমন হারে হতাশ আনচেলত্তি। এ নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, “আমরা হেরেছি হয়েছি। এটা কঠিন মুহূর্ত। কিন্তু আমি সমর্থকদের ধন্যবাদ দিব এভাবে সমর্থন দেয়ার জন্য। আমাদের সব কিছু ছুঁড়ে ফেলার দরকার নেই, ছুঁড়ে ফেলার মতন তেমন কিছু হয়নি।”
রিয়ালের বিপক্ষে জয়ের মধ্য দিয়েই রিয়াল থেকে ৬ পয়েন্টে এগিয়ে গেলে হ্যান্সি ফ্লিকের বার্সা। তবে আনচেলত্তির মতে এই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব। তাই স্মৃতি থেকে সেই ৩০ মিনিট মুছে ফেলতে চাই বলে তিনি বলেন, “আমাদেরকে শেষ ৩০ মিনিট ভুলে যেতে হবে। মৌসুম অনেক লম্বা, আমাদের অবশ্য হাল ছাড়া যাবে না। আমাদের এটা থেকে শিখতে হবে, ঘুরে দাঁড়াতে হবে। মৌসুম লম্বা, অবশ্যই সব ছুঁড়ে ফেলতে হবে না। দল আরও ভাল করতে পারে এবং আমরা সেটা করব।”



রিয়াল মাদ্রিদের জালে বার্সার এক হালি!