Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে চীনের পাল্টা ১২৫% শুল্ক আরোপ

চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১৪৫% করার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কড়া জবাব দিলো বেইজিং

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম

বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক ৮৪% থেকে বাড়িয়ে ১২৫% করেছে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১৪৫% করার সিদ্ধান্তের কড়া জবাব দিলো চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়।

চীনের অর্থ মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ শুল্ক আরোপ করে আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক বাণিজ্য বিধি, মৌলিক অর্থনৈতিক নিয়ম গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করেছে এবং এটি সম্পূর্ণ একতরফা দমন ও চাপ সৃষ্টি করার শামিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী সরবরাহশৃঙ্খল বিপর্যস্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হলো।

তবে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেও এদিন চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, সমমর্যাদার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য এখনও প্রস্তুত বেইজিং।

এদিকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) চীনের মিশন জানিয়েছে, তারা মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে বাণিজ্য সংস্থায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

ক্রমবর্ধমান চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। ট্রাম্পের প্রতিটি শুল্ক বৃদ্ধির পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে দেখা গেছে চীনকে। যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

হোয়াইট হাউস বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধির চাপ অব্যাহত রেখেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র অন্য বহু দেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করলেও চীনের ক্ষেত্রে শুল্ক বহাল রেখেছে।

গত এক সপ্তাহ ধরে চীন যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ ও মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নানা বিধিনিষেধ দেওয়ায়, দুই দেশের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

এর আগে, বুধবার ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, “চীন আলোচনায় আসতে চায় না, এটা দুঃখজনক। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় ওরাই সবচেয়ে বড় অপরাধী।”

তিনি আরও বলেন, “আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে চীনের মতো ভারসাম্যহীন অর্থনীতি আর নেই। এই উত্তেজনা চীনের জন্য ক্ষতির কারণ হবে, এটা নিশ্চিত।”

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের মোট জিডিপির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির অবদান প্রায় ৩% হলেও এতে দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের ওপর প্রভাব পড়ে। আনুমানিক ২ কোটি চীনা কর্মী যুক্তরাষ্ট্রমুখী রপ্তানি খাতে যুক্ত।

চীন শুক্রবার ফের জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার স্বার্থে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখে, তবে বেইজিং দৃঢ়ভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করবে। সিএনবিসি জানায়, এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।

   

About

Popular Links

x