Monday, November 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অস্থির সময়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ?

বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:২১ পিএম

গত কয়েক মাস ধরেই বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের দাম। একের পর এক গড়ছে নতুন রেকর্ড। স্বর্ণের দামের এই প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। বাংলাদেশে এখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৭২,৫৪৬ টাকায়। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। যেকোনো সময় এই রেকর্ড ভেঙে গড়তে পারে নতুন রেকর্ড। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আগামীতে স্বর্ণের ভরি বেড়ে কত হবে—সেই প্রশ্নটিই এখন জনমনে।

এদিকে বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করে স্বর্ণ কেনায় ঝুঁকছেন বলেই মূল্যবান এ ধাতুটির দাম বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের কারণে গত এক শতাব্দীর মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যনীতিতে অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। যার প্রভাবে গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স (২.৪৩ ভরি) স্বর্ণের দাম বেড়ে ৩,১৬৭ ডলার ছাড়িয়েছে।

শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগের কারণে এ বছর বারবার স্বর্ণের রেকর্ড ভেঙেছে।

সাধারণত আর্থিক সংকট বা অস্থির সময়ে স্বর্ণকে নির্ভরযোগ্য ও দৃশ্যমান সম্পদ হিসেবে দেখা হয়। অস্থির সময়ে প্রায়ই স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, স্বর্ণে বিনিয়োগ কি সত্যিই নিরাপদ?

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থবাজার ধসে পড়লে হঠাৎ করে "স্বর্ণ কেনার হিড়িক" শুরু হয়। অনেকেই এ সময় স্বর্ণ কেনার চেষ্টা করেন।

আর এই ক্রেতাদের বেশিরভাগই ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী অথবা খুচরো বিনিয়োগকারী কিংবা সরকার বলে জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ইতিহাসবিদ ড. ফিলিপ ফ্লায়ার্স।

তিনি যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে আরও বলেন, "সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে শেয়ারের মতো ইক্যুইটি ছেড়ে দিচ্ছে এবং স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে। আর এতে স্বর্ণের দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে।"

তার মতে, প্রথাগতভাবে আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে 'সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ধাতু' হিসেবে ধরা হয়।

২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে হঠাৎ করেই স্বর্ণের দাম অনেক বেড়ে যায়। তবে, আর্থিক বাজারের অনিশ্চয়তা স্বর্ণকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে বিবিসিকে জানান তিনি।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাব শুরু হলে স্বর্ণের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়। তবে মার্চ মাসের মধ্যেই সেই দাম আবার কমতে শুরু হয় উল্লেখ করে ড. ফ্লায়ার্স বলেন, "এটি 'নিরাপদ' বিনিয়োগ, তার মানে এই নয় যে এতে কোনো ঝুঁকি নেই।”

তবুও আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে বিনিয়োগের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে এখনও স্বর্ণ বিবেচিত হয়। আর তা কেবল এর মূল্যের জন্য নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে অত্যন্ত মূল্যবান হিসেবে গণ্য হওয়ায় এটি সহজে বিনিময়যোগ্যও।

তাই বহু মানুষ তাদের সম্পদ সংরক্ষণের জন্য স্বর্ণকেই একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে দেখে; এতে আশ্চর্যান্বিত হওয়ার কিছু নেই। তবে বাসায় থাকা স্বর্ণের গয়না বা এর তৈরি অন্যান্য সামগ্রীর মূল্য সাধারণত বৈশ্বিক অর্থবাজারের ওঠানামায় তেমন প্রভাবিত হয় না বলে মত অর্থনীতিবিদদের।

তবে স্বর্ণে বড় পরিমাণে বিনিয়োগ করা হলে তা বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকলাপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পেছনে "কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অনেক বেশি করে সোনা কেনার" কারণকেই দায়ী বলে মনে করেন ড. ফ্লায়ার্স।

তিনি জানান, অনিশ্চয়তার সময়ে রিজার্ভ শক্তিশালী করতে তারা শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে সরে এসে প্রচুর পরিমাণে স্বর্ণ কেনে। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে মূল্যবান এই ধাতুতে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তিনি বিবিসিকে বলেন, "স্বর্ণের দাম বাড়বে এই আশায় বিনিয়োগ করাটা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ কৌশল। কারণ একবার বাজারে স্বস্তি চলে এলে এবং সরকারগুলো স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে এলে, মানুষ আবার স্বর্ণ ছেড়ে দেবে।”

তিনি বলেন, "আমি বলব স্বর্ণে বিনিয়োগ করলে সেটা দীর্ঘমেয়াদে করতে হয়।"

   

About

Popular Links

x