সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে সার্ভার রুম আগুনে পুড়ে যাওয়ায় সোমবার যাত্রীদের ইমিগ্রেশন করা হয় ম্যানুয়ালি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলা হলেও বিষয়টিকে সিভিল এভিয়েশন ও ইমিগ্রেশন পুলিশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিআইজি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার রুম পরিদর্শন করেন।
সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানান, আগুনে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওসমানী বিমানবন্দরে আগত প্রবাসী-বিদেশি যাত্রীদের ম্যানুয়ালি ইমিগ্রেশন করা হচ্ছে। লন্ডন থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট (নম্বর বিজি ২০২) সোমবার সকাল ৮টা ৫৪ মিনিটে ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ফ্লাইটের ২২২ যাত্রীর ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হয় ম্যানুয়ালি। সার্ভার চালু হলে এসব তথ্য সার্ভারে ইনপুট দেওয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বেবিচকের চেয়ারম্যান প্রতিনিধি দল নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সার্ভার রুম পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি ইমিগ্রেশন পুলিশের ডিআইজিও এসেছেন ওসমানীতে।”
সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার কুতুব উদ্দিন এ প্রতিবেদককে জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন। তবে, এটি তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়।
রবিবার রাতে আগুন লাগার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ওসমানীতে ছুটে যায়। এর আগে ওসমানী এয়ারপোর্ট ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজে নামে। ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি ইমিগ্রেশন বিভাগ ও সিভিল এভিয়েশন তদন্ত করছে।
বিমানবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সার্ভার রুমের তারগুলো এলোমেলো অবস্থায় রাখা ছিল। যে কারণে আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য, আধাঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস জানান, ওসমানী বিমানবন্দরে দোতলায় ইমিগ্রেশনের সার্ভার রুমে রবিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আধাঘণ্টার আগুনে সার্ভার রুমটি পুড়ে যায়। বিমানবন্দরের সব ফ্লাইট আসা-যাওয়া শেষ হওয়ার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় ফ্লাইট শিডিউলে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান তিনি।