বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজ বন্ধ

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে অর্থাভাবে রেলওয়ে জংশন স্টেশনে নতুন করে শুরু হওয়া ওভার ব্রিজের নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ১৮৭৮ সালে সান্তাহার জংশন স্টেশন নির্মাণ হওয়ার পর, গত বছর ব্রডগেজ লাইনের পুরাতন ওভার ব্রিজটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলে তারা ব্যর্থ হন।

কাজ শেষ না হওয়ায় ট্রেন যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাইনের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হয়। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে কাজটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাকশী বিভাগের রেলওয়ে ব্রিজ সেকশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, ওভার ব্রিজ নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গত বছরের প্রথম দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রজলীন কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজের দায়িত্ব পায়। শুরুতে কাজে গতি থাকলেও বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। স্বল্প সংখ্যক নির্মাণ শ্রমিককে নিয়ে ব্রিজের নির্মাণ কাজ চালিয়ে গেলেও ঈদের আগে থেকে কাজ একেবারে বন্ধ রয়েছে।

রজলীন কন্সট্রাকশনের ঠিকাদার মিস্টার রিডারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ফান্ড সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ওভার ব্রিজের প্রায় ৯০% কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় ২ কোটি ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ টাকা বিল পেয়েছি।”

ঠিকাদার আরও জানান, তিনি যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে এ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে কাজ করেছেন। বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, প্রতিদিন সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওপর দিয়ে প্রায় ৪২টি ট্রেন চলাচল করে। এই সমস্ত ট্রেনের যাত্রীরা আগে ওভার ব্রিজ ব্যবহার করতেন। বর্তমানে ওভার ব্রিজ না থাকায় তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মঙ্গলবার স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের থাকার অফিস তালাবদ্ধ। সন্ধান করেও কোনো শ্রমিকের দেখা মেলেনি। 

ট্রেন যাত্রী রাজু আহমেদ বলেন, “চাকরির কারণে তাকে প্রতিদিন সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে ট্রেনে নওগাঁর আত্রাই যেতে হয়। প্রায় এক বছর ধরে ওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে। এরপরও কাজ শেষ হচ্ছে না। ওভার ব্রিজ না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।”

এ বিষয়ে রেলওয়ে পাকশী বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান আলী কাজের সময় বর্ধিত করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “ফান্ডের কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারছেন না। এ পর্যন্ত যে সকল কাজ হয়েছে তার সিংহভাগ ঠিকাদার নিজস্ব তহবিল থেকে করেছেন। অর্থের বিষয়টির পাশাপাশি ঈদের ছুটির পর সময়মতো শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে।”

স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, “নির্মাণ কাজ কেন বন্ধ রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”