দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনের প্রাকৃতিক অস্তিত্ব ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। দ্বীপটির পরিবেশগত ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে বছরে মাত্র তিন মাস পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার যে সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, তা বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত উত্তরে তিনি জানান, সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই।
মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, সরেজমিন বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, বছরে ৯ মাস পর্যটন বন্ধ রাখার ফলে দ্বীপটির পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটেছে। এই দীর্ঘ বিরতিতে দ্বীপটি প্রাকৃতিকভাবে নিজের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
সেন্ট মার্টিনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “তিন মাসের অধিক সময় পর্যটন চালু থাকলে উন্মুক্ত সাগরের বুকে বাংলাদেশের এই একমাত্র প্রবাল দ্বীপের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। এটি আমাদের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ও জাতীয় গর্ব। তাই এর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের এই ব্যবস্থা আমাদের চালিয়ে যেতেই হবে।”
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের কারণে সেন্ট মার্টিনের প্রবাল ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য যেভাবে ধ্বংস হচ্ছিল, সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফলে তা আবার প্রাণ ফিরে পাবে। জনস্বার্থ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই কঠোর নিয়ম কার্যকর করা সময়ের দাবি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।