ঈদের ছুটিতে চিরচেনা কোলাহল নেই বান্দরবানে

ঈদ-উল-আজহার টানা সাত দিনের ছুটিতেও পর্যটকদের চিরচেনা কোলাহলে মুখরিত হয়নি পাহাড়ের রানী বান্দরবান। প্রতিবছর এই সময়ে সবুজ পাহাড় আর বর্ষার অপরূপ রূপ দেখতে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল নামলেও, এবার চিত্রটা ভিন্ন। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে এবারের ঈদে পর্যটকদের আনাগোনা ছিল একেবারেই সীমিত।

শনিবার (৩০ মে) জেলা সদরের নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও রুপালি ঝরনা ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। 

স্বাভাবিক সময়ে ঈদের ছুটিতে জেলা শহরের মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি কিংবা দেবতাখুমের মতো জনপ্রিয় স্পটগুলো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। তবে এবারের দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলো ছিল অনেকটাই জনশূন্য। ফলে শহরের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে সিংহভাগ কক্ষই খালি পড়ে ছিল।

হোটেল অর্কিডের মালিক রাজীব বড়ুয়া জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পর্যটকদের আগমন আশঙ্কাজনক কম। যার কারণে হোটেলের অনেক রুম বুকিং হয়নি। অধিকাংশ হোটেল ৫০-৬০% বুকিং পেয়েছে।

অন্যদিকে ছুটিকে কেন্দ্র করে বিপুল পর্যটক সমাগমের আশায় বুক বেঁধেছিলেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট চালকেরা। গাড়ি ও নৌকার চালকেরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও পর্যটক না আসায় চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের। শহরের বাসস্টেশনগুলোতে অসংখ্য পর্যটকবাহী গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। একই চিত্র থানচির সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীতেও; সেখানেও পর্যটকবাহী নৌকাগুলোতে যাত্রী ছিল হাতেগোনা।

পর্যটকবাহী যানবাহনের চালক সুমন বলেন, “ঈদ উপলক্ষে কিছু গাড়ি পর্যটক নিয়ে বিভিন্ন স্পটে গেছে ঠিকই, কিন্তু সিংহভাগ গাড়িই যাত্রী না পেয়ে অলস সময় পার করছে।”

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বান্দরবান একেক ঋতুতে একেক রূপে সাজে। গ্রীষ্ম, বর্ষা কিংবা শীত - যেকোনো ঋতুতেই এখানকার নীলাচল, মেঘলা, স্বর্ণমন্দির, শৈলপ্রপাত, প্রান্তিক লেক, চিম্বুক, নীলগিরি, দেবতাখুম, বগালেক, কেওক্রাডং, তমাতুঙ্গী, রাজা পাথর, রেমাক্রি ফলস, মিরিঞ্জা ভ্যালি কিংবা আলী সুড়ঙ্গের সৌন্দর্য যেকোনো বিষণ্ণ মনকে মুহূর্তে আনন্দে ভরিয়ে দিতে পারে।

পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে ও তাদের সুবিধার্থে গত ২৮ ও ২৯ মে দুই দিন জেলা প্রশাসন পরিচালিত মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক ও চিম্বুকসহ সব সরকারি পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ মূল্যে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, ছাড় থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পর্যটক মেলেনি। মাত্র ৮০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। গত ঈদের ছুটিতে প্রায় ২,০০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক জানান, জেলা শহরের বাইরে অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও অসংখ্য আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে এবং সেগুলোতে ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

পর্যটন ব্যবসায়ী নেতা ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, বান্দরবান একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা এবং এখানে পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদা সচেষ্ট। দেশের অন্য যেকোনো জেলার তুলনায় এখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট জোরদার। যেকোনো সরকারি ছুটিতে আগত পর্যটকদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়। তাই বছরের যেকোনো সময়েই পর্যটকেরা নির্দ্বিধায় বান্দরবানের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসতে পারেন।