নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে (২১) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার ( ৩০ জুলাই ) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে যেতেন, ভিক্ষাবৃত্তিও করতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে ভুক্তভোগী তরুণীকে ধর্ষণ করে। ঘটনা কাউকে না জানাতে ভুক্তভোগী ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি। পরবর্তীতে একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করা হয়।
এ দিকে মেয়েটির মা তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্থানীয় ওষুধের দোকান ও পরবর্তীতে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলে ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান চিকিৎসকরা।
গত ২৩ জুলাই বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আসামির বিচারের দাবিতে একটি মানববন্ধন আয়োজন করেন।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জুলাই ভুক্তভোগীর মা কবিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।
ভুক্তভোগীর সঠিক চিকিৎসা সংক্রান্ত ও প্রসূতি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালত বাদী পক্ষের পিটিশনের ভিত্তিতে কবিরহাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসী আদালতে এই নির্দেশ প্রদান করেন।
নোয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি জানান, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবার এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টিকে অন্য খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালান।