গাজীপুর সাফারি পার্কের দর্শনার্থী বাসের সিটে ময়লা পরিষ্কারের কথা বলায় বন প্রহরীদের হামলায় নারী দর্শনার্থীসহ ৮ দর্শনার্থী আহত হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলাও করেছেন দর্শনার্থীরা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শনিবার হামলা ও মারধরের ঘটনায় দর্শনার্থী শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করে।
আহতরা হলেন, রাজধানীর বারিধারা (নতুন বাজার) এলাকার সালমা হোসেন (৪৫), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭), জারিফ (১৫) ও তাদের গাড়ি চালক রাসেল (২৫)। আব্দুল কাহারের ছেলে মানিক মিয়া (৩৭), ফরিদ উদ্দিনের ছেলে আরমান (৪৫), আফাজ উদ্দিনের ছেলে দোয়েল হক (৩৫), আশিক (৩৫)। সন্ধ্যার পর ওই মারামারির ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সংবাদকর্মীদের নজরে আসে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে পার্কের সহকারী বন সংরক্ষকের কার্যালয়ের একটি কক্ষে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহরী ফরহাদকে বরখাস্ত করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ।
দর্শনার্থী সালমা হোসেন জানান, ঘটনার দিন দুপুরে দুই ছেলে আহনাফ ও জারিফকে নিয়ে তিনি গাজীপুর সাফারি পার্কে যান। পার্কের কোর সাফারির দর্শনার্থীদের বাসে উঠে সিটে ময়লা থাকায় প্রহরী ফরহাদকে পরিষ্কার করতে বলেন। সিটের ময়লা পরিষ্কারের দায়িত্ব তার না বলে ওই নারী দর্শনার্থীর ছেলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে দর্শনার্থী বাসটি কোর সাফারি ঘুরে এসে তাদেরকে নামিয়ে না দিয়ে চালক বাসটি নিয়ে সরাসরি সহকারী বন সংরক্ষকের অফিসের নিচে নিয়ে যায়।
“সেখানে গেলে প্রহরী ফরহাদসহ তার অন্যান্য সহকর্মীরা আমার দুই ছেলে ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালক রাসেলকে মারধর শুরু করে। তিনি ফেরাতে গেলে তাকেও ধাক্কা দেয় পার্কের লোকজন। এসময় ওই নারীর তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, তার এবং ছেলের মুঠোফোন এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া যায়।”
সাফারি পার্কের দায়িত্বে থাকা টুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, “দর্শনার্থী সালমা হোসেন কোর সাফারি বাসের দায়িত্বে থাকা প্রহরী ফরহাদকে বাসের সিটে ময়লা পরিষ্কারের করতে বলে। এসময় প্রহরী ফরহাদ বলে সিট পরিষ্কার করা আমার দায়িত্ব না। আমার দায়িত্ব হলো বাসের সবগুলো সিট ফিলাপ হয়েছে কি’না এটা দেখভাল করা। একপর্যায়ে উভয়েই তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ওই নারীর ছেলের সঙ্গে প্রহরীর হাতাহাতি হয়। দর্শনার্থী বাসটি কোর সাফারি ঘুরে আসার পর প্রহরী ফরহাদ তার অন্যান্য সহযোগীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে চালক দর্শনার্থীসহ বাসটিকে সহকারী বন সংরক্ষকের অফিসের নিচে এসে দাঁড়িতে বলে। তখন পার্কের দায়িত্বে থাকা অন্যান্য লোকজন ওই নারীকে পার্কের দোতলায় অফিসে উঠতে বলে। অফিসে যাওয়ার কথা বলায় নারী বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। ওই সময় পার্কের সব বন প্হরী ওই অফিসের নিচে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে বন প্রহরীদের সাথে নারীর ছেলেকে বন প্রহরীরা এলোপাতারি মারধর শুরু করে।”
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান এ ঘটনায় পার্কের দুজন কর্মচারী আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাদেরকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “মুমিন নামে আমাদের একজন স্টাফকে হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমাদের স্টাফকে আহত করার পর বাসে থাকা ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয় আলোচনা করার জন্য। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় বন বিভাগের স্টাফ ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, “সাফারি পার্কে দর্শনার্থী ও পার্কের কর্মীদের সাথে মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। দর্শনার্থীর পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাতে পার্ক কর্তৃপক্ষ একটি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”