ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়ার আসর থেকে ৪ পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ সময় পুলিশের অভিযানে বাধা দেওয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পুলিশের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে সদর থানায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
এর আগে, ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), কনস্টেবল আলমগীর কবির (৩৩) এবং সদর ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই মো. শাহাদত জামান (৩৯)।
ওই আসরে থাকা আরও দুই সদস্য অভিযানের সময় পালিয়ে যান। তারা হলেন, পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এটিএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) এবং পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮)। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে কার্যালয়ের উত্তর পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পুলিশ সদস্যদের জুয়া খেলার তথ্য পায় সদর থানার টহল দল।
পরে সোমবার রাত দেড়টার দিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ঘরে অভিযান চালায়। সে সময় ঘরটিতে তাস খেলার সঙ্গে টাকার লেনদেন চলছিল।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিরা বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পেছনে ধাওয়া করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানা আহত হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে তার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে তাস, জুয়ার বোর্ডে থাকা নগদ টাকা ও কয়েকটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশে চারটি মোটরসাইকেলও পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মঙ্গলবার মামলাটি সদর থানায় নথিভুক্ত করা হয়। এতে ২০২৬ সালের জুয়া প্রতিরোধ আইনের ১৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩ ও ৩২৫ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত করছেন সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পাল। তিনি বলেন, “অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক দুজনকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, “কয়েক দিন ধরে পুলিশের কিছু সদস্য জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাচ্ছিলাম। পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। সাধারণ অপরাধীদের বিরুদ্ধে যেভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাদের বিরুদ্ধেও একইভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আটক পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সদর থানায় জুয়া আইনে মামলা করা হয়েছে। তারা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। বুধবার আসামিদের আদালতে নেওয়া হয়েছে।”