গাজীপুরে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভকারী কয়েকশ শ্রমিক কারখানার সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর (আমবাগ) এলাকার ওই কারখানার সমানে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ রিপোর্ট লেখা (বিকেল সোয়া ৩টা) পর্যন্ত শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান করছেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা জানান, চলতি মাসের ১০ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মালিকপক্ষ বেতন না দিয়ে কারখানার সামনে সাধারণ ছুটির নোটিশ টানিয়ে দিয়েছে। গত ১১ মাস যাবত অনিয়মিতভাবে বেতন দিচ্ছে। আজকে মাসের ২১ তারিখ। বাড়িওয়ালা রুম ভাড়া না দেওয়ার কারণে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। প্রত্যেক মাসে শিপমেন্ট যায়, তারপরও বেতন দিতে পারে না। কিসের জন্য দিতে পারে না। মালিক ১০-১২টা কারখানা চালায়। এটা নিয়মিত চালালে মালিকের সমস্যা কী?
অপর এক শ্রমিক বলেন, “আমরা সিও, জিএম, ম্যানেজারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তাকে পাচ্ছি না। আমাদের বেতন কে দিবে? আমাদের পেট চলবে কিভাবে? দোকান মালিকরা বাকি দেয় না। যার কারণে আজকে আমরা রাস্তায় নামছি। আমরা সমাধান চায়, না হলে আমরা রাস্তা থেকে সরে যাব না।”
সুমনা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক জানান, রুম ভাড়া, দোকান বাকি ও ছেলে মেয়ের স্কুলের বেতন দিতে পারছি না। বাড়িওয়ালা আমাদের রুম থেকে বের করে দিতে চায়। মালিকের অন্য কারখানায় বেতন ঠিক মতো দিচ্ছে আমাদের বেলায় এতো সমস্যা কেন?
প্রায় পাঁচশত শ্রমিক কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে তাদের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করার দাবি জানান। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও বেতন পরিশোধ না করায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেক শ্রমিক পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা বেতন পরিশোধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত কারখানা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া দুই মাসের বেতন পরিশোধ করা না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে জানান।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শিল্প পুলিশ ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমিপর) কোনাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমিপর) কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হোসেন জানান, মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের দাবি পূরণে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, “গত দুই মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা ফিডার রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। মালিকের পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।”