আশুলিয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের মামলা, আজও বন্ধ চার কারখানা

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি পোশাক কারখানা চত্বরে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানায় বাদি হয়ে মামলাটি করেন আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব।

দুপুরের দিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।  

তিনি বলেন, “প্রীতি গ্রুপের পার্কিংয়ে লরি ও কাভার্ড ভ্যানে মজুদকৃত সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “মামলায় দাহ্য পদার্থ অপরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। কারখানার দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে মামলাটি হয়েছে। এতে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।”

তবে তদন্তের স্বার্থে নাম জানায়নি পুলিশ।

চার কারখানা আজও বন্ধ

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ঘটনার জেরে আজও ঘটনাস্থলের চারটি কারখানা বন্ধ রয়েছে।

সকালে কারখানাগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টাঙানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেড, প্রীতি কম্পোজিট গার্মেন্টস লিমিটেড, অক্সফোর্ড কালারস লিমিটেড ও এস সুহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড বন্ধ থাকবে।

প্রীতি গ্রুপের এই চারটি কারখানা একই জায়গায় অবস্থিত। কারখানাগুলোর মালামাল পরিবহনের জন্য কারখানার সামনে খোলা জায়গায় নির্ধারিত পার্কিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, “মঙ্গলবারও প্রীটি গ্রুপের চারটি কারখানা বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই কারখানাগুলোর ভবনের দরজা-জানালার গ্লাস ভেঙ্গে গেছে।”  

বিচারের দাবিতে কর্মসূচি

এ ঘটনার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও শোক র‍্যালি করেছে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আশুলিয়া থানা কমিটি ও বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন।

মঙ্গলবার সকালে গার্মেন্টসের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এ সময় তারা প্রীতি গ্রুপের আহত সকল ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা সেবা প্রদান ও শ্রমিকদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য কারখানা মালিকের প্রতি আহ্বান জানান।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ওই কারখানার চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারের গাড়িতে বিস্ফোরণ থেকে আগুন লাগে। বিস্ফোরিত সিলিন্ডারগুলো উড়ে গিয়ে কারখানা ভবন ও আশে পাশের বাসাবাড়ি-দোকানগুলোতে আছড়ে পড়ে। ফলে আশেপাশের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ঘটনায় পার্শ্ববর্তী একটি দর্জি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর ওপর উড়ে গিয়ে পড়ে সিলিন্ডার। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘটনাস্থলে থাকা কাভার্ড ভ্যানের ভেতরে একটি মরদেহ, নিচে তিনটি ও পাশে আরও একটি মরদেহ পাওয়া যায়। এতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় জনে। আহতের মধ্যে তিন জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়। এতে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় আট জনে। পাশাপাশি আহত ও দগ্ধ হন অন্তত ২৬ জন।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস এ ঘটনায় চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।