পুরান ঢাকার চকবাজারের মুনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আগুন পুরোপুরি নেভানো যায়নি। ভবনটি থেকে এখনো ধোঁয়া বের হচ্ছে। নিরাপত্তার কারণে আশপাশের মার্কেটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে তারা আগুনের খবর পায়। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি নেভানোর কাজ এখনো চলছে। কর্মীরা গুদামগুলোর মালামাল সরিয়ে সেখানে পানি ঢালছেন।
ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে মোট ১০টি ইউনিট কাজ করেছে। এখন পুরোপুরি নেভানোর জন্য কাজ করছে ছয়টি ইউনিট।
মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে ব্যবসায়ীরা জানান, ভবনটি সাততলা। নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ব্যাগ, কসমেটিকস, ছাতা, আতর ও চার্জারের দোকান। প্রতি তলায় ৪০ থেকে ৫০টি দোকান রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গতকাল বিকেলে ষষ্ঠ তলায় প্রথম আগুন লাগে। সেখানকার প্রায় সব গুদামের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সপ্তম তলার বেশির ভাগ গুদাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আর পঞ্চম তলাতেও আগুন ছড়িয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ভেতরে ঢুকতে না পারায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব তারা এখনো পাননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নিরাপত্তার স্বার্থে মিটফোর্ড হাসপাতালমুখী সড়কটি বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে মুনসুর খান প্লাজার আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫টি ভবনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এসব ভবনে কসমেটিকসহ নানা পণ্যের অসংখ্য দোকান আছে। ভবনের সামনে ও আশপাশের সড়কে উৎসুক মানুষ ভিড় করেছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে কাজ করছেন। নিচতলার কয়েকজন দোকানি নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। ওয়াসার পানিবাহী গাড়িতে করে পানি আনতেও দেখা গেছে।
ষষ্ঠ তলায় এফ এম লেদার নামে ব্যাগের গুদাম আছে খোরশেদ আলমের। তিনি জানান, তার গুদামে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মালপত্র ছিল, সব পুড়ে গেছে। কিছুই বের করতে পারেননি, এখনো ভেতরে ঢোকাও সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি বলেন, “কিছু তো করার নেই, আল্লাহ ভরসা।”