নোয়াখালী সদর উপজেলার একটি বসতঘরের বন্ধ দরজা ধাক্কা দিতেই ভেতরে মেঝেতে পড়ে থাকা এক নারীর মরদেহ দেখতে পান প্রতিবেশীরা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম ফয়েজের নেছা (৫৫)।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ফয়েজের নেছা বসতঘরে একাই থাকতেন। শুক্রবার সকাল থেকে ঘরের দরজা বন্ধ থাকলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে দুপুরে এক প্রতিবেশী নারী দরজা ধাক্কা দিলে ঘরের মেঝেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে স্বজনদের খবর দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে বিকেলে সুধারাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তা নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনাস্থলে যাওয়া স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বেলাল হোসেন জানান, বিকেল পৌনে চারটার দিকে তিনি সেখানে যান। উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে শুনেছেন, নিহত নারীর মুখে আঁচড়ের দাগ ও গলায় কালচে দাগ ছিল। তবে তিনি নিজে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেননি।
সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুষ্টা লাল বিশ্বাস জানান, পারিবারিক বনিবনা না থাকায় নিহত নারীর স্বামী তার সঙ্গে থাকতেন না। তাদের দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছেন। ছেলেরা ঢাকায় এবং মেয়েরা চট্টগ্রামে থাকেন। ফলে ওই নারী বাড়িতে একাই বসবাস করতেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “নারীর শরীরে পুরোনো কালচে দাগ রয়েছে। তবে এগুলো আঘাতের চিহ্ন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, ফয়েজের নেছার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।