টাঙ্গাইলে মধুপুর উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নে সাধারণ ভোটারদের হুমকি দেওয়ায় সাদিকুল ইসলাম সাদিক নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খন্দকার মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। অভিযুক্ত সাদিকুল ইসলাম সাদিক মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মির্জাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, “সাদিকুর রহমান সাদিকের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরে অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।”
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, “মামলার পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিকেলে অরণখোলা ইউনিয়নের আমলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রহিমের নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মির্জাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদিকুল ইসলাম সাদিক।
সেখানে তিনি বলেন, “আমি আজকেও বলে দিতে চাই, ১৫ তারিখ ভোট হবে সারাদিন এবং নৌকা মার্কায় ভোট হবে। আপনারা ভোট দেবেন। যারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন, তারাই কেন্দ্রে আসবেন। আর যারা নৌকায় ভোট দিতে নারাজ, দয়া করে কেন্দ্রে আসবেন না। আমরা কিন্তু আশপাশেই অবস্থান করব। এখানে ২৪০০ ভোট রয়েছেন, যদি দুই হাজার ভোট কাস্ট হয়, আমরা দুই হাজার ভোটই পেতে চাই।”
তিনি আরও বলেছিলেন, “যেকোনো মূল্যে নৌকাকে আমাদের বিজয়ী করতেই হবে। এ জন্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ আমরা প্রতিটি কেন্দ্রে দুর্গ গড়ে তুলব। যেখানে যা প্রয়োজন আমরা সেটাই ব্যবহার করব।”
নির্বাচনী সভায় সাদিকুল ইসলাম সাদিকের দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও পরদিন বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি অনেক ভোটারের মাঝে অসন্তোষ এবং ভয়েরও জন্ম নিয়েছে। যদিও সাদিকুল সাদিকের দাবি ছিল, তার বক্তব্যটি বিরোধী পক্ষ এডিটিং করে কুৎসা রটিয়েছে।
পরবর্তীতে তার এ মন্তব্যের জেরে রবিবারে মধুপুর অরণখোলা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। তবে তবে পরবর্তীতে কবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা জানানো হয়নি।