প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, “অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ভোটের ১০ মিনিট পর ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ফল বিপর্যয় ঘটানো হয়। আমি ইভিএম পরীক্ষা করে দেখেছি, আইনস্টাইন (বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন) এলেও ফল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”
রবিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় পাবনার ঈশ্বরদীতে “নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: চ্যালেঞ্জসমূহ এবং উত্তরণের উপায়” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে বোঝাপড়া না থাকলে, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে, সেই নির্বাচনকে প্রত্যাশিত মাত্রায় অংশগ্রহণমূলক বলা যাবে না। সে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।”
সিইসি বলেন, “আমাদের নির্বাচন করতেই হবে। আমরা অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।”
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা নির্বাচন করব সংবিধানের বিধান অনুযায়ী। যেটা বর্তমানে বহাল আছে। সেভাবেই আমাদের নির্বাচন করতে হবে। একইভাবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করবে।”
রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বিভেদ ভুলে সব দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, “যদি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে কোনো বোঝাপড়ার গ্যাপ থাকে, তাহলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান করুন। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জনগণের কাছে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চেষ্টা করবো।”
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফর উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। বাংলাদেশ সুগার ক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সেমিনার হলে আয়োজিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশন সচিব জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক আব্দুল বাতেন।